ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর ইসরায়েলের পদ্ধতিগত নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ। ফ্রান্সেসকা আলবানেজে, যিনি ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক, শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ উত্থাপন করেন।
‘টর্চার অ্যান্ড জেনাসাইড’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর ব্যাপক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, যা ‘সমষ্টিগত প্রতিশোধ ও ধ্বংসাত্মক উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত বহন করে’।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্দীদের ওপর নির্মম প্রহার, যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ, প্রাণঘাতী নির্যাতন, অনাহার এবং ন্যূনতম জীবনযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনা ঘটেছে। এতে হাজার হাজার মানুষের পাশাপাশি তাদের পরিবারও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুরুষ, নারী ও শিশুদের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে নির্যাতন ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সঙ্গে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, গণহত্যা ও জীবিকা ধ্বংসের ঘটনাও যুক্ত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি সম্মিলিত ভোগান্তি তৈরি করছে।
ফ্রান্সেসকা আলবানেজে জানান, তার এই অনুসন্ধান ৩০০টিরও বেশি লিখিত সাক্ষ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। যদিও তিনি সব পক্ষের নির্যাতনের নিন্দা করেছেন, এই প্রতিবেদনের মূল ফোকাস ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড।
উল্লেখ্য, নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ ইসরায়েল। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর অধিকৃত অঞ্চলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে ১৮ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৫০০ শিশু রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ফিলিস্তিনি আটক রয়েছেন এবং ৪ হাজারের বেশি ব্যক্তির জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের আটক ব্যবস্থা ‘ব্যবস্থাগত অপমান, জবরদস্তি ও আতঙ্কের এক শাসনব্যবস্থায়’ রূপ নিয়েছে।
ফ্রান্সেসকা আলবানেজে ইসরায়েলকে অবিলম্বে সব ধরনের নির্যাতন বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সুপারিশ করেন।
তিনি আগামী সোমবার ইউএন হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলে তার প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন। যদিও বিশেষ প্রতিবেদকরা এই কাউন্সিলের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত, তারা স্বাধীনভাবে কাজ করেন এবং সরাসরি জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন না।
এদিকে, ইসরায়েল ও তার কিছু মিত্র এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এটিকে ‘বিদ্বেষপ্রসূত প্রচারণা’ বলে দাবি করেছে। সম্প্রতি ফ্রান্স ও জার্মানি তার কিছু মন্তব্যের কারণে তার পদত্যাগ দাবি করে।
এই প্রতিবেদন ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তে থাকা নজরদারিকে আরও জোরদার করেছে এবং এর ফলে আইনি ও কূটনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


