‘ইরানে শাসন পরিবর্তনই সবচেয়ে ভালো হতে পারে’ বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আয়তুল্লাহ আলী খামেনির পরিবর্তে তিনি কাকে ক্ষমতায় দেখতে চান, তা স্পষ্ট করেননি। অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের অনুগত কারও দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ক্ষমতা নেওয়ার লোক আছে।’
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি সঞ্চারে এরইমধ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি এক ঘোষণায় বলেন, ‘খুব শিগগিরই ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের “বিপুল শক্তি” থাকবে।’
পেন্টাগন সূত্র জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলা মাথায় রেখে মার্কিন সেনারা কঠোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেও কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনার মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকবেন ওমানের প্রতিনিধিরা।
তবে আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সমাধানের তেমন সম্ভাবনা নেউ বলে মনে করছেন ট্রাম্প। নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে এক সামরিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘৪৭ বছর ধরে তারা (ইরান) কথা বলছে। এদিকে আমরা অনেক প্রাণ হারিয়েছি। পা উড়ে গেছে, হাত উড়ে গেছে, মুখ ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। অনেক দিন ধরে এটা চলছে।’

ওয়াশিংটন চায়, পারমাণবিক আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং ইরানি জনগণের সঙ্গে আচরণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হোক।
অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি তারা আলোচনায় যুক্ত করতে রাজি নয়।
এদিকে পারমাণবিক অস্ত্র বন্ধে চুক্তি না হলে ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তেহরানও সেই সম্ভাব্য হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এমন পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এমন কী বাকি আছে যে ফের হামলা করতে হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ধুলো। সেখানে ধুলো ছাড়া আরকিছু বাকি আছে বলে আমি মনে করি না। যদি আমরা হামলা করি, সেটা মিশনের ছোট অংশ হবে। তবে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যদি কিছু বাকি থাকে, আমরা সেসবও নিয়ে নেব।’
মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কারণ জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি আমরা চুক্তি না করতে পারি, আমাদের এটা লাগতে পারে। দরকার হলে প্রস্তুত থাকবে।’
মার্কিন এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, সামরিক সম্পদ সরানো একটি জটিল প্রক্রিয়া। রণতরীটির মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবে।

ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড নামের যুদ্ধজাহাজটি এরইমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যোগ দেবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কয়েকটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমানও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন।
জেরাল্ড আর. ফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক এবং বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী। এটি সম্প্রতি ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থান করছিল। এ বছর ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী অভিযানেও জাহাজটি অংশ নিয়েছে।


