যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে নিয়ে তার ধৈর্যের সীমা শেষের দিকে পৌঁছে গেছে। তিনি বলেন, ‘এবার তাদের চুক্তিতে আসতেই হবে।’
বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ‘ব্যয়বহুল ও বিশ্বজুড়ে সমালোচিত’ ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা শেষে ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলের কাছে একটি জাহাজ ইরানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়।
ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের একটি চুক্তিতে আসা উচিত।’
ইরানের গোপন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে প্রশ্নে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, মূলত জনমত ও ভাবমূর্তির কারণেই যুক্তরাষ্ট্র সেটির নিয়ন্ত্রণ চায়।
‘জনসংযোগের দৃষ্টিকোণ ছাড়া আমি এটিকে খুব জরুরি মনে করি না। তবে সত্যি বলতে, এটা যদি আমার নিয়ন্ত্রণে থাকে তাহলে আমি স্বস্তি বোধ করব। কিন্তু আমার মনে হয়, এটি বাস্তব প্রয়োজনের চেয়ে জনমতের বিষয় বেশি’, যোগ করেন তিনি।
ট্রাম্প-শি জিনপিংয়ের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউস জানায়, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতাই ইরানের ‘অবৈধ নিয়ন্ত্রণে’ থাকা হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
একই সঙ্গে শি জিনপিং স্পষ্টভাবে জানান, চীন হরমুজ প্রণালিকে সামরিকীকরণের বিরোধী এবং এর ব্যবহার বাবদ কোনো ধরনের শুল্ক আরোপের চেষ্টারও বিরোধিতা করে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, শি জিনপিং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন- চীন ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কোনো সামরিক সরঞ্জাম দেবে না।
‘তিনি (শি) বলেছেন, তিনি সামরিক সরঞ্জাম দেবেন না। এটি বেশ বড় ধরনের বক্তব্য…’
হোয়াইট হাউসের তথ্যানুযায়ী, শি জিনপিং ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দুই নেতা একমত হয়েছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। অবশ্য তেহরান বরাবরই এমন অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক নৌপথে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আফ্রিকা থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গবাদিপশু বহনকারী একটি ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজে বুধবার বিস্ফোরণের পর সেটি ওমান উপকূলীয় জলসীমায় ডুবে যায়।
ভারত এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেছে, জাহাজের ১৪ জন নাবিককে ওমান উপকূলরক্ষী বাহিনী উদ্ধার করেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, জাহাজটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা হয়ে থাকতে পারে, যার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের উপকূলে নোঙর করা একটি জাহাজে ‘অননুমোদিত ব্যক্তিরা’ উঠে পড়ে এবং সেটিকে ইরানের দিকে নিয়ে যেতে শুরু করে বলেও বৃহস্পতিবার দাবি করে ভ্যানগার্ড।
তাদের মতে, বন্দরের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন- জাহাজটি নোঙর অবস্থায় থাকাকালে ‘ইরানি বাহিনী’ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়।
ফুজাইরাহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের একমাত্র তেলবন্দর, যা ওমান উপসাগরে হরমুজ প্রণালির ঠিক বাইরে অবস্থিত। ফলে কিছু জাহাজ এই সংকটপূর্ণ পথ এড়িয়ে সরাসরি বাজারে পৌঁছাতে পারে।


