স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক আকস্মিক পরিদর্শনের পরও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা ও সেবার মানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখনো চরম অবহেলার শিকার হাসপাতালের অনেক ওয়ার্ড। কয়েকটি বিভাগে মঙ্গলবার থেকে কোনো ডাক্তারও পরিদর্শনে আসেননি।
এছাড়া শয্যা পাওয়াসহ অন্যান্য প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য রোগীদের এখনো অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতাল চত্বর ঘুরে দেখা গেছে, চারপাশ ময়লা-আবর্জনা এবং নোংরা পানিতে ভেসে যাচ্ছে। রোগী এবং তাদের স্বজনরা জানান, এখানে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া ছাড়া কোনো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। এমনকি সরকারি চাকরির জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আসা কয়েকজন আবেদনকারীও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন। তারা জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এক্সরে ফি ২০০ টাকা হলেও তাদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তার কাছে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন দু’জন রোগী। ডা. আনোয়ার হোসেন তাদের সেই টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন।
একই সাথে হাসপাতালে জনবল সংকট এবং নানাবিধ অনিয়মের কথা স্বীকার করেন ডা. আনোয়ার হোসেন। এসব অনিয়মের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
হাসপাতালের হেমোরেজিক ফিভার আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীরা জানান, গত তিন দিন ধরে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাদের দেখতে আসেননি। মেডিকেল অফিসাররা দিনে মাত্র একবার আসেন। এর বাইরে কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যায় না। হুমায়ুন কবির নামে এক রোগীর আত্মীয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা এখানে চিকিৎসার জন্য এসেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত গরম এবং সেবার অভাব তাদের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রোগীর অবস্থা খারাপ হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো ডাক্তার পাওয়া যায় না।
কোম্পানীগঞ্জের চর বলুয়া থেকে আসা আবু জাকের জানান, তার চার বছর বয়সী ছেলেকে তিন দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু এই তিন দিনে মাত্র একবার একজন চিকিৎসক তাকে দেখেছেন। বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক তার ছেলেকে দেখতে আসেননি।
সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তিনি এখনো হাসপাতালের লিখিত দায়িত্ব পাননি, কেবল মৌখিকভাবে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি হাসপাতাল ঘুরে দেখেছেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথা বলে সব বিভাগ পরিদর্শন করেছেন। হাসপাতালে জনবল সংকট এবং নানা অনিয়ম এখনো রয়ে গেছে। তবে এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালটি আকস্মিক পরিদর্শন করেন। মন্ত্রীর সেই পরিদর্শনের পর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। একই সাথে হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং নজরদারি বাড়াতে সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনকে এই অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও হাসপাতালের চেনা চিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি।


