ফের হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
শুক্রবার ইরান সব ধরনের জাহাজের জন্য প্রণালি খুলে দেওয়ার পর জাহাজটি গভীর রাতে পারস্য উপসাগর থেকে যাত্রা শুরু করে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি নৌবাহিনী অগ্রসর হওয়ার অনুমতি না দিয়ে জাহাজটিকে ফিরে যেতে বাধ্য করে।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান শুক্রবার মধ্যরাতে হোয়াটসঅ্যাপে টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতা হওয়ায় ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে ইরানি নৌবাহিনী আমাদের বের হতে দেয়নি এবং ফিরে যেতে বলেছে। আমরা এখন মিনা সাকর ওপিএলের দিকে যাচ্ছি।’
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন জানায়, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি প্রণালিতে প্রবেশ করে এবং ভোর ৩টার মধ্যে এটি পার হওয়ার কথা ছিল।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে প্রণালী অতিক্রমের এটি জাহাজটির দ্বিতীয় ব্যর্থ চেষ্টা। এর আগে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরপরই জাহাজটি প্রণালি পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল, তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এতে জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকের অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘ হয়।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল বহন করে জাহাজটি জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর সামরিক হামলা শুরু করলে তেহরানের পাল্টা আক্রমণে পুরো অঞ্চলে দ্রুত উত্তেজনা বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাসের সময় কাছাকাছি একটি তেল ডিপোতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে জাহাজে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়। কার্যক্রম শেষ করে জাহাজটি প্রথমে প্রণালি থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে নোঙর করে। পরে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেটিকে শারজাহ বন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এক পর্যায়ে জানা যায়, বাংলাদেশের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষ ছয়টি জাহাজকে ছাড়পত্র দিয়েছে, যার মধ্যে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ও ছিল। তবে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পায়নি।


