পুলিশের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনায় ৮০ জন রোগী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ কোনো রোগী পাননি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। সংঘর্ষে ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিও আহত হন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন হাসপাতালটির পরিচালক।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের মধ্যে আহত ৬০ জন মতো রোগী আমরা পেয়েছি। এখনও রোগী আসছে। তবে কোন গুলিবিদ্ধ অথবা পিলেটের রোগী পাইনি। তাদের মাথায় ইনজুরি, মুখে ইনজুরি, পায়ের ইনজুরি, এছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ইনজুরি আছে যেটা লাঠির আঘাতে হয়েছে। এছাড়া অনেকের ইনহেলেশন ইনজুরি আছে, যেটা টিয়ারসেলের কারণে হয়েছে। আমরা অক্সিজেন দিয়ে তাদের মোটামুটি সুস্থ করেছি। তবে কোন রোগী আমরা এখনো ভর্তি করিনি।’
প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অনেক রোগী ছেড়ে দিয়েছেন জানিয়ে পরিচালক বলেন, ‘আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সমস্যা হলো, ক্রাউড কন্ট্রোল। আমাদের ২০০ চিকিৎসক উপস্থিত আছে। চিকিৎসক, নার্সের কোন স্বল্পতা নাই। ক্রাউড ম্যানেজ করা যাচ্ছে না। কেউ কথা শুনতে চায় না। এক রোগীর সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জন চলে আসে। তখন সমস্যায় পড়তে হয়।’
এরপর দ্বিতীয় দফায় শাহবাগে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ প্রায় বিশজন আহত হয়ে হাসপাতালে যান। তাদেরও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শুক্রবার রাতে প্রথম দফায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এর সামনে পুলিশের সাউন্ডগ্রেনেড, টিয়ারসেল ও লাঠিচার্জে অর্ধশতাধিক ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা আহত হয়। এর প্রতিবাদে সন্ধ্যার দিকে শাহবাগ অবরোধ করে। সেখানে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল গ্যাসে ঢাকা -১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রাথী মহিউদ্দিন রনিসহ বিশ জন আহত হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন মোস্তাক আহমেদ বলেন, মহিউদ্দিনের লাঠির আঘাত রয়েছে, এছাড়া টিয়ারসেল গ্যাসে ইনহেলেশন ইনজুরি হয়েছে। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল। বাকিদেরও টিয়ারগ্যাস ও লাঠির আঘাত রয়েছে।


