ইউক্রেনের আবাসিক এলাকায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নারী ও শিশুসহ আহত হয়েছেন ২০ জনের বেশি ইউক্রেনীয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতভর দোনেৎস্ক, নিপ্রো, পোলতাভাসহ ইউক্রেনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিশিষ্ট এলাকায় ওই হামলা চালায় রাশিয়া।
এ সময় আকাশ, স্থল ও সমুদ্র থেকে একযোগে শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, হামলায় ওই এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, শনিবার সকালে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, রুশ বাহিনী আকাশ, স্থল ও সমুদ্র থেকে একযোগে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে।
কিয়েভের দাবি, রুশ বিমানবাহিনী আকাশ পথে মোট ৫০৩টি আক্রমণ করেছে, যার মধ্যে ৪৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৫৮টি ড্রোন হামলা। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেবল ৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হন এবং ৪০৬টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়।
মূলত ইউক্রেনের গ্যাস ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা হয়।
জাপোরিঝঝিয়ার গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান, রাতের হামলায় একটি আবাসিক এলাকায় ৩ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। দনেৎস্কের দুটি জেলায় আরও ২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
খেরসনের গভর্নর ওলেক্সান্দর প্রোকুদিন জানান, বহুতল আবাসিক ভবন ও যানবাহনে হামলায় ২ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন।
কিয়েভের গভর্নর মাইকোলা কালাশনিকের তথ্যমতে, ভিশহোরোদ জেলায় হামলায় এক নারী আহত হয়েছেন এবং বেসামরিক এলাকা ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দ্নিপ্রো অঞ্চলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত ও শিশুসহ আরও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া, পোলতাভা অঞ্চলের গভর্নর ভলোদিমির কহুত রাতভর রুশ হামলাকে ‘সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পোলতাভার একজন আহত হয়েছেন।
এ হামলা গত চার বছর ধরে যুদ্ধ বন্ধে কিয়েভের সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সেইসঙ্গে তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রুশ সম্পদ জব্দ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার এই হামলা দেখিয়ে দিয়েছে, তাদের ওপর চাপ আরও জোরদার করতে হবে।’
‘রুশ পারমাণবিক জ্বালানি খাত এখনও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসেনি, রুশ সামরিক শিল্প এখনও পশ্চিমা মাইক্রোইলেকট্রনিক্স পাচ্ছে; তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের ওপর আরও চাপ বাড়াতে হবে’, যোগ করেন জেলেনস্কি।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের সবশেষ যুদ্ধ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তারা আকাশ, স্থল ও সমুদ্র থেকে ‘উচ্চ ক্ষমতা ও নির্ভুলতা সম্পন্ন দীর্ঘ-পাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনে বড় আক্রমণ চালিয়েছে। এর মধ্যে শক্তিশালী হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল।
ক্রেমলিনের দাবি, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিমান থেকে নিক্ষিপ্ত দুটি বোমা এবং ১৭৮টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। শনিবার দুপুরের আগেই আরও আটটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।


