ইউক্রেনে রাতভর হামলা রাশিয়ার, নিহত বেড়ে ১০

ইউক্রেনে রাতভর হামলা রাশিয়ার, নিহত বেড়ে ১০
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাতভর হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০০ জন।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক হামলায় মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহর কেঁপে ওঠে। দেশটির কর্মকর্তারা জানান, কিয়েভ ও দিনিপ্রোসহ একাধিক শহর লক্ষ্য করে চালানো এই হামলার আগে কয়েক দিন ধরেই মস্কোর পক্ষ থেকে বড় ধরনের আক্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কবার্তা পাওয়া যাচ্ছিল।

কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে চালানো সবচেয়ে বড় রুশ হামলাগুলোর একটি হতে পারে।

এর আগে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় সোমবার গভীর রাতে চালানো হামলায় ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে চারজন নিহত ও ১৬ জন আহত হন। এ ছাড়া রাজধানী কিয়েভে আরও একজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

হামলার সময় রাজধানী কিয়েভজুড়ে হাজারও মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। শহরের কেন্দ্র থেকে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ইউক্রেনের অধিকাংশ অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।

গত সপ্তাহে মস্কো সতর্ক করেছিল, রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলের একটি ডরমিটরিতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনার জবাবে তারা ইউক্রেনজুড়ে “নিয়ন্ত্রিত হামলা” চালাবে।

আরও পড়ুন

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিতস্কো বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কিয়েভ সিটি মিলিটারি প্রশাসনের প্রধান তাইমুর কাচেঙ্কো বলেন, ‘শত্রুপক্ষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাচ্ছে।’

ক্লিতস্কোর ভাষ্য অনুযায়ী, শহরের দুটি বহুতল আবাসিক ভবনে হামলা হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

কিয়েভে হামলার সময় একের পর এক বিস্ফোরণের পাশাপাশি ড্রোনের শব্দ শোনা যায়। শহরের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো জানা যায়নি।

এদিকে, জাপোরিঝঝিয়া শহরের একটি শিল্প স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে, সোমবার রাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য বড় ধরনের রুশ হামলার বিষয়ে আবারও সতর্ক করেছিলেন এবং জনগণকে বিমান হামলার সতর্কসংকেতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাতের ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘রুশ হামলা নিয়ে গোয়েন্দা সতর্কবার্তা এখনো কার্যকর রয়েছে। বড় ধরনের হামলার সম্ভাবনা আছে।’ তবে তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

গত সপ্তাহে রাশিয়া জানিয়েছিল, তারা কিয়েভের সামরিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে এবং বিদেশিদের শহর ছেড়ে যাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছিল।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা গত ২১ এবং ২২ মে রাতে স্টারোবিলস্কের কাছে একটি হামলা চালিয়েছিল, তবে সেটি রুশ সামরিক ইউনিটকে লক্ষ্য করেই করা হয়েছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad