দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের বছরে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। তবে আইএমএফ থেকে এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার আনতেই জান বের হয়ে যায়। এক-দেড় বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের নেগোসিয়েশন করে।
তিনি বলেন, ‘জনগণই সবচেয়ে বেশি ইফেক্ট হয় এবং জনগণ (প্রভাব) মোকাবেলায় এগিয়ে আসে। লোকাল লোকেরা নিজেদের প্রচেষ্টায় কিন্তু দুর্যোগ মোকাবেলা করে। বাংলাদেশ কিন্তু এদিক থেকে প্রথম কাতারে।’
সোমবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ মিলনায়তনে ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স: মিডিয়া রিপোর্টিং প্রশিক্ষণ’ সেশনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘এইখানে আমি বলব, আমাদের যারা সাংবাদিক যারা ভাইবোন আছেন, তাদের রোলটা অনেক বেশি।’
সংবাদমাধ্যম যাতে জনস্বার্থে কাজ করে তার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক আর্টিকুলেট করবে মানুষের কথা। কার কী অবদান সে কথা বলবে।…আপনারা ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম তো করবেনই, কিছুটা আপামর জনগনের ওপর ক্লাইমেট রিলেটেড প্রভাব নিয়ে করবেন।’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম বলেন, ‘ক্লাইমেট চেঞ্জের কারণে বাংলাদেশ ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিশ্বের কাছে সেই গল্প যথাযথভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনীয় অর্থায়নও আসছে না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ডেঙ্গু বাড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে, মহামারি হচ্ছে, এমনকি রাজনৈতিক অস্থিরতাও তৈরি হচ্ছে। আমি অনেক আগে একটি লেখা পড়েছিলাম যেখানে বলা হয়েছিল-জেনারেল এরশাদের পতনের পেছনেও জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা ছিল। ১৯৮৭-৮৮ সালের ভয়াবহ দুটি বন্যা এরশাদের শাসনব্যবস্থাকে পুরোপুরি উন্মোচিত করে দেয়। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তন আঞ্চলিক অস্থিরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠতে পারে।’
শফিকুল আলম বলেন, ‘যদি আমরা এই বিষয়গুলোকে সঠিকভাবে মোকাবেলা করতে না পারি, তাহলে সেগুলো অনেকটা ভবদহের মতো চাপা পড়ে থাকবে। মৌসুমি বন্যা বা জলাবদ্ধতা যখন প্রকট হয় তখন সংবাদমাধ্যমে তা গুরুত্ব পায়, কিন্তু সমস্যা শেষ হয়ে গেলে আবার আলোচনার বাইরে চলে যায়।’
সভাপতির বক্তব্যে পিকেএসএফ’র চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, ‘এই শতাব্দীর জন্য জলবায়ু পরিবর্তন সবচেয়ে বড় হুমকি। এজন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং এতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।’
পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডি বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।


