দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে এবং একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে মহান সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে তাঁবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন এক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে।’
রাষ্ট্রপতি জানান, জুলাই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার ১ হাজার ২৪৩টি স্বাস্থ্য কার্ড দিয়েছে এবং গুরুতর আহত ১৩৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে।
জুলাই শহীদদের স্মরণে দেশের ৬৪ জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং ঢাকায় জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু হলে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন। এরপরও রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ অব্যাহত রাখেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে কাজ করছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষায় তিনি আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি দেশের অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিষয়ে তথ্যও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে, যা নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। কৃষি ও অর্থনীতিতে জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা এবং ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া প্রতিবছর পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি।
দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ব্যাংক খাতে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে।
পুঁজিবাজার সংস্কারের জন্য পৃথক একটি কমিশন গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি, যা ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হওয়া সব অনিয়ম তদন্ত করবে।


