জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আর্থিক লেনদেন নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়ে তার ব্যাংক হিসাব, লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্য জরুরি ভিত্তিতে তলব করা হয়েছে।
একাধিক ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র টাইমসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তার অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, কেওয়াইসি নথি, লেনদেনের বিবরণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কসহ যাবতীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা শাখা সাধারণত অর্থপাচার, অস্বাভাবিক লেনদেন বা ঘোষণাবহির্ভূত সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ ধরনের অনুসন্ধান চালায়।
জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র প্রতিনিধিদের একজন হিসেবে আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তিনি ও মাহফুজ আলম উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে পদত্যাগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বর্তমান এমপি নাহিদ ইসলাম।
আসিফ মাহমুদের জন্ম ১৯৯৮ সালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর গ্রামে। তার বাবা মো. বিল্লাল হোসেন ও মা রোকসানা বেগম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে আত্মপ্রকাশ করা গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির ঢাবি কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে আসিফ এনসিপির মুখপাত্র।
উপদেষ্টা হিসেবে তার যাত্রা শুরু থেকেই বিতর্কমুক্ত ছিল না। তার বাবার কিছু ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা হয়।
উপদেষ্টা থাকাকালে স্থানীয় সরকার ও যুব খাতের কিছু নিয়োগ ও প্রকল্প সিদ্ধান্ত নিয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল।
বিশেষ করে আওয়ামী ঘনিষ্ঠ মাসুদ আলমের ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডকে নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া ২৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়। এই প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত চালাচ্ছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রশিক্ষণের জন্য সজীবের মন্ত্রণালয় মাসুদ আলমের প্রতিষ্ঠানকে জনপ্রতি ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। অথচ একই প্রশিক্ষণ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো দিচ্ছে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকায়।
এই প্রকল্প ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। তার আমলে পাস হওয়া আরও কিছু প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন আছে।
বিএফআইইউর সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ নতুন করে সেই প্রশ্নগুলো সামনে নিয়ে এসেছে।
এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘আগামীকাল আমি নিজেই ব্যাংক স্টেটমেন্ট সবার জন্য উন্মুক্ত করবো। পদত্যাগের আগেই আয়-সম্পদের হিসাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে দিয়ে এসেছি।’


