ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ৭০ বছর বয়সী হালিম উদ্দি আকন্দের চুল ও দাড়ি জোরপূর্বক কেটে দেওয়ার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
চার মাস আগের এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শনিবার দুপুরে তারাকান্দা থানায় ভুক্তভোগীর ছেলে মো. শহীদ আকন্দ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হিউম্যান সার্ভিস বাংলাদেশ নামের সংগঠনের সাত সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে আসা এই সংগঠন ময়মনসিংহে গিয়ে হালিম উদ্দিনের চুল ও দাড়ি জোর করে কেটে দেয়।
বৃদ্ধ হালিম উদ্দিন আকন্দ অভিযোগ করেন, ‘ওইদিন আমি বাজারে গিয়েছিলাম। তারা আমাকে জোর করে ধরে আমার চুল ও দাড়ি কেটে দেয়। বাজারে তখন মানুষ কম ছিল। চেষ্টা করেও আমি তাদের হাত থেকে রেহাই পাইনি। তখন আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি। এখনো আল্লাহর কাছে বিচার চাই। তবে পরিবারের কথায় থানায় অভিযোগ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার চুল-দাড়ি কাটার সময় বাইরের দুইজন লোকসহ প্রায় আট থেকে নয়জন লোক ছিল। তাদের মধ্যে এলাকার নয়ন ও মজনুও ছিল। তারা এখনো এলাকায় আছে এবং আমাকে ভয় দেখাচ্ছে।’
হালিম উদ্দিন আকন্দ তারাকান্দা উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা তাকে ‘হালিম ফকির’ নামে চেনেন। তিনি মানসিক রোগী নন এবং দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে চুল-দাড়ি না কেটে ফকিরি জীবন যাপন করে আসছেন। তিনি হজরত শাহজালাল (র.) ও শাহ্ পরানের (র.)-এর ভক্ত।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হালিম উদ্দিন স্বাভাবিকভাবে হাট-বাজারে চলাফেরা করেন। তিনি পুত্র ও কন্যার জনক এবং একসময় কৃষক ছিলেন। এলাকায় তার কোনো অসভ্য আচরণের অভিযোগ নেই বলেও জানান তারা।
ময়মনসিংহ জেলা বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আসলাম বলেন, ‘হালিম উদ্দিন কাদেরিয়া ও নকশবন্দিয়া তরিকার অনুসারী। তাকে এভাবে হেনস্তা করা কখনো কাম্য নয়। যারা এসব করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।’
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. টিপু সুলতান জানান, ‘ঘটনাটি প্রায় চার মাস আগের হলেও সম্প্রতি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমরা ভুক্তভোগীর পরিবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত করে আসামিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হবে।’


