মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের জেরে গভীর সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস করার পর জাহাজটি এখন পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারছে না।
ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজটি বর্তমানে আরব আমিরাত উপকূলের কাছে নোঙর করে আছে। চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন জাহাজের ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক। তবে তাদের খাদ্য ও পানি সংকট নেই জানিয়ে বিএসসির কর্মকর্তারা বলেছেন, জাহাজটিতে প্রায় ছয় মাসের খাবার এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ সুপেয় পানি মজুদ আছে।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে জাহাজটির নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক।
রোববার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাহাজটির নিরাপদ প্রত্যাবর্তনকে জাতীয় স্বার্থ হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, এমভি বাংলার জয়যাত্রা গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষ করে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কুয়েতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় জাহাজটি আরব আমিরাতের পোর্ট লিমিটের বাইরে নোঙর করে আছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধকবলিত সমুদ্রসীমা এড়িয়ে হরমুজ প্রণালী নিরাপদে পার হতে হলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোস্টগার্ডের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চিঠিতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, এম ভি বাংলার জয়যাত্রা এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। যেহেতু এটি এখনো হরমুজ অঞ্চলের মধ্যেই রয়েছে, তাই জাহাজটিতে কাতার থেকে নতুন পণ্য বোঝাই করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জাহাজটির নিরাপদ চলাচলের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বিএসসি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, জাহাজটি গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে হরমুজ প্রণালী হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে কাতার থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে জাহাজটি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্মিলিতভাবে ইরানে হামলা চালালে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের পাল্টা হামলার ফলে ওই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক নৌপথগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের এই জাহাজটির ওপর।
বিএসসির কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বিএসসির বহরে মোট সাতটি জাহাজ রয়েছে। তবে এমভি বাংলার জয়যাত্রা ছাড়া অন্য কোনো জাহাজ এই মুহূর্তে উপসাগরীয় যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে নেই। বাকি ছয়টি জাহাজ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, কানাডা, রাশিয়া, সেনেগাল এবং লাইবেরিয়ার বিভিন্ন বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে।


