আরও ৪৫ দিন যুদ্ধবিরতি বাড়াতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে রাজি হয়েছে দুই পক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠক শেষে শুক্রবার এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও বৈঠক করবে বলেও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হচ্ছে, যাতে আরও অগ্রগতি সম্ভব হয়।’
দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে এই আলোচনা ‘খুবই ফলপ্রসূ’ ছিল বলেও জানান তিনি।
তেলআবিব ও বৈরুতের মধ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী রোববার শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই এটি আরও বাড়ানোর ঘোষণা এল।
লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদলও তাদের শান্তি আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছে।
টমি পিগট জানান, আগামী ২৯ মে পেন্টাগনে আলোচনার নতুন ‘নিরাপত্তা ধাপ’ শুরু হবে। এ ছাড়া ২ ও ৩ জুন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনার জন্য আবারও দুই পক্ষকে একত্র করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি, পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার পূর্ণ স্বীকৃতি এবং অভিন্ন সীমান্তে প্রকৃত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে।’
গত ২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর তিন দিনের মাথায় ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা। ইরানের হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা যুদ্ধে জড়ায়। এর পর ইসরায়েলও লেবাননে বিমান হামলা জোরদার করে।
শুক্রবারের এই বৈঠক ছিল ওই সংঘাত শুরুর পর দুই দেশের তৃতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক। এই বৈঠকগুলো লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে যোগ দিইয়েছেন নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তারাও।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের প্রাথমিক বৈঠকের পর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। অবশ্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সংঘাতের মূল কেন্দ্র দক্ষিণ লেবানন, যেখানে ইসরায়েল নিজেদের ঘোষিত নিরাপত্তা অঞ্চল দখল করে রেখেছে।
এদিকে লেবাননে সংঘাত বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি আলচোনা এগিয়ে নিতে নারাজ ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত চুক্তিতে বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ করাও বৃহত্তর সমঝোতার ক্ষেত্রে তাদের অন্যতম দাবি।
যদিও শিয়া মুসলিম গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর আপত্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া লেবাননের প্রতিনিধিদল যুদ্ধ বন্ধকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতির ইতিবাচক পরিবেশকে স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ দিতে চায়।
দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নিরাপত্তা আলোচনা শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বস্তির সুযোগ পাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথে রাজনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার এই আলোচনাকে ‘খোলামেলা ও গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘আলোচনায় উত্থান-পতন থাকবে, তবে সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি। পুরো আলোচনা জুড়ে আমাদের নাগরিক ও সেনাদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।’
অবশ্য ইসরায়েলের দাবি, লেবাননের সঙ্গে বৃহত্তর শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে হবে। অন্যথায় তারা হিজবুলাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।


