ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে ঢাকা ছেড়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইরানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আমন্ত্রণে খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেবেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই তেহরান, কোম, ইরাক ও মাশহাদে খামেনির জানাজা এবং দাফন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার ছাড়াও সংসদের কয়েকজন সদস্য নিজ উদ্যোগে আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে যাচ্ছেন।
৪ জুলাই থেকে শুরু করে পাঁচ দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই তার জন্মশহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্সের খবরে জানা যায়, প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী রাজধানী তেহরানে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ৭ জুলাই ধর্মীয় নগরী কোমে বিশেষ শোক অনুষ্ঠান করা হবে।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হবে বলে ইরানের কর্তৃপক্ষ আশা করছে। পাঁচ দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই তার জন্মশহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় পরিবারের কয়েক সদস্য ও কাছের সঙ্গীদের সঙ্গে নিহত হন আয়াতুল্লাহ খামেনি। মৃত্যুর সময়ে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
উল্লেখ্য, ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর পরিবর্তিত শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৮০ সালে অল্প সময়ের জন্য তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সূচনার পর তিনি ইসলামী বিপ্লবী বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচন করেন।


