বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি হত্যা মামলায় কারাভোগ শেষ হওয়ার পর মুশফিক উদ্দীন টগর অস্ত্র কেনাবেচায় জড়িয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে র্যাব।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে ঢাকার আজিমপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় র্যাব। পরে শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয় টগর সম্পর্কে বিস্তারিত।
সনি হত্যা মামলায় সাজাভোগ শেষ হলে ২০২০ সালের ২০ আগস্ট গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান টগর।
ঢাকার কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩ এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, ‘মুশফিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র কারবারি। তিনি সীমান্ত থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এনে ঢাকায় বিভিন্নজনের কাছে বিক্রি করতেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চলছে।’
টগরের বিরুদ্ধে ঢাকার মুগদা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা আছে বলেও জানান তিনি।
২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েট ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের তৎকালীন ছাত্রদল নেতা মুশফিক উদ্দিন টগর গ্রুপের মধ্যে দরপত্র নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের মধ্যে ক্লাস থেকে হলে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সনি।
সেসময় এই ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সারাদেশে শুরু হয় আন্দোলন।
সনি ছিলেন বুয়েটের কেমিপ্রকৌশল বিভাগের ১৯৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী।
২০০৩ সালের ২৯ জুন ঢাকার বিচারিক আদালতে সনি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে ছাত্রদলের নেতা মুশফিক উদ্দিন টগর, মোকাম্মেল হায়াত খান ওরফে মুকিত ও নুরুল ইসলাম ওরফে সাগরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া পাঁচজনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
পরে ২০০৬ সালের ১০ মার্চ মুশফিকসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন উচ্চ আদালত।


