চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত এলাকায় পানিবাহিত রোগের পাশাপাশি সাপের উপদ্রবও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বন্যার মধ্যে এখন পর্যন্ত সাপের কামড়ে ৭৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সময়ে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২০ থেকে ২৫ জন।
রোববার চট্টগ্রামের জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম টাইমস অব বাংলাদেশকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করছে। এসব দল দুর্গত এলাকায় গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করছে। বিশেষ করে প্লাবিত এলাকায় কোনো অন্তঃসত্ত্বা নারী বা অসুস্থ শিশু থাকলে তাদের দ্রুত নৌকায় করে হাসপাতালে নিয়ে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখন পর্যন্ত সাপের কামড়ে ৭৫ জন আহত হয়েছেন। বন্যার সময় আশ্রয়স্থল ও বসতবাড়িতে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সাপে কাটার চিকিৎসার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একই সময়ে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও এখন পর্যন্ত ডায়রিয়ার প্রকোপ উদ্বেগজনক নয়, তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে রোগের সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দুর্গত এলাকার মানুষকে সাপের কামড় এড়াতে রাতে চলাফেরার সময় সতর্ক থাকা, পানিতে নামার আগে লাঠি দিয়ে জায়গা পরীক্ষা করা এবং সাপে কাটলে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে নিরাপদ পানি পান, স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


