আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
তারা বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আদিবাসীদের ভূমির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার, নাগরিক সমাজ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে একযোগে কাজ করতে হবে।
রোববার রাজধানীর কারিতাস ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (সিডিআই) মিলনায়তনে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইকোলজি প্ল্যাটফর্ম (বিএপি) প্রকল্প আয়োজিত ‘ভূমি ও আদিবাসী অধিকার এবং জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা’ বিষয়ক অ্যাডভোকেসি সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে আদিবাসীদের নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনা তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
তিনি বলেন, আদিবাসীদের অনেক কিছুর নাম বদলে দেওয়া হচ্ছে। এটা একটা জেনোসাইড (গণহত্যা), যা বন্ধ হওয়া দরকার। যত্রতত্র ইকোপার্ক করাও বন্ধ করতে হবে। ইকোপার্ক মানুষের অধিকার লঙ্ঘন এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংস করে। ভূমির অধিকারসহ আদিবাসীদের সুরক্ষায় বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সাদরুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে আদিবাসীরা ঝুঁকিতে আছে। তাদের সুরক্ষা ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং বর্তমান সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে কারিতাস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক দাউদ জীবন দাশ বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভূমি অধিকার ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার বিষয়টি জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
সেমিনারে উত্থাপিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন সম্ভব।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিজেনাস পিপলস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস (আইপিডিএস)-এর সভাপতি সঞ্জীব দ্রং। তিনি আদিবাসীদের ভূমি অধিকার ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় ১৫ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। আদিবাসীদের জীবন ও জীবিকায় প্রভাব ফেলতে পারে এমন যেকোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে তাদের পূর্বানুমোদিত ও অবহিত সম্মতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।
কারিতাস বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হলেন মাইথিন প্রমিলার সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী কামরুল ইসলাম, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শিল্পী কুন্ডু, বারসিকের পরিচালক ও গবেষক পাভেল পার্থ, বাংলাদেশ কৃষক ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. বদরুল আলম, কারিতাস বাংলাদেশের পরিচালক (প্রোগ্রাম) অপূর্ব ম্রং এবং ব্যবস্থাপক সুবাস এ. গোমেজ।


