আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানিতে হাইকোর্টে হাজির হয়েছিলেন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) রেজিস্ট্রার আয়ুব হোসেন।
আদালতে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার মো. আবু হানিফার বেতন-ভাতা চালুর বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা ইতিমধ্যে প্রতিপালন করা হয়েছে।
আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানিতে মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রেজিস্ট্রার আয়ুব হোসেন স্বশরীরে হাজির হন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি টাইমসকে জানান, রেজিস্ট্রার আয়ুব হোসেন স্বশরীরে হাজির হয়ে জানিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আদালতের আদেশ পালন করা হয়েছে।
এর আগে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আয়ুব হোসেনকে তলব করে হাইকোর্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার মো. আবু হানিফার বেতন-ভাতা চালুর বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অমান্য করায় রেজিস্ট্রারকে ৩ ফেব্রুয়ারি স্বশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রতি এ নির্দেশ দেয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।
জানা গেছে, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও রেজিস্ট্রার আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পরও উপ-রেজিস্ট্রার মো. আবু হানিফাকে বেতন-ভাতা না দিয়ে আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করেছেন। ভুক্তভোগী উপ-রেজিস্ট্রারকে বিগত আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তাকে বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার আখ্যা দিয়ে একটি বিতর্কিত তদন্ত রিপোর্টের সুপারিশের আলোকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর চাকরির স্থায়ী নিয়োগ আদেশ বাতিল করে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল রায়ে তার চাকুরিচ্যুতির অফিস আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। গত বছরের ৭ আগস্ট উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে যোগদানপত্র দিয়ে চাকরিতে পুনর্বহাল করে দাপ্তরিক দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়। বেতন-ভাতা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বিভিন্ন কৌশলে তা বন্ধ রাখা হয়।
আইনজীবী মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় ভিসি ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আবেদন করা হয়। শুনানি নিয়ে গত বছরের ২০ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করে। সেই রুলের শুনানিতে গত ২২ জানুয়ারির আদেশে হাইকোর্ট রেজিস্ট্রারকে ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে হাজির হতে নির্দেশ দেয়।


