আদালতে বিমানের সাবেক এমডির স্ত্রীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

আদালতে বিমানের সাবেক এমডির স্ত্রীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
Advertisement
Advertisement

গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় বিমান বাংলাদেশের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বিথী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে সাত দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোবেল মিয়া। আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিন জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদনে বলা হয়, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্বীকার করেন।

তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে ইচ্ছা পোষণ করেন। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা একান্ত প্রয়োজন।

এই মামলায় শুক্রবার আদালতে দোষ স্বীকার করে সাফিকুর ও তার বাসার গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন

তখন সাফিকুর প্রথমে জবানবন্দি দিতে চাইলেও পরে অস্বীকার করেন। তাই শুধুমাত্র বাসার গৃহকর্মী সুফিয়ার জবানবন্দি রেকর্ড করে দুই জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

একই মামলায় গত বৃহস্পতিবার আরেক গৃহকর্মী রূপালী খাতুনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

এর আগে, গৃহকর্মী শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় তার হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা গত ১ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথী, বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন আদালতে তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। গত ১০ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমান ও গৃহকর্মী রুপালী খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন এবং তার স্ত্রী বিথীর সাত দিন এবং আরেক গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

মামলায় বিবরণে বলা হয়, সাফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী  বাচ্চা দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফাকে এ বিষয়ে জানানো হয়। মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতিতে গত বছরের জুন মাসে মোস্তফা তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান।

সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসেন তিনি। এরপর আর মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পরে ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে মোস্তফাকে তার মেয়ে অসুস্থ বলে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়েকে আনতে যান মোস্তফা। তখনই মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান তিনি। তার মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বীথি এর কোনো ‘সদুত্তর’ দিতে পারেননি।

পরে মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান মোস্তফা। মেয়ে তাকে জানায়, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হতো। তাকে ‘মারধর করার পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছেঁকাও’ দেওয়া হতো।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad