আত্মঘাতী গোলে মিসরের জয় অধরা, বেলজিয়ামের কষ্টার্জিত ড্র

আত্মঘাতী গোলে মিসরের জয় অধরা, বেলজিয়ামের কষ্টার্জিত ড্র
বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে রোমেলু লুকাকু তাৎক্ষণিকভাবে মোহাম্মদ হানির ওপর চাপ সৃষ্টি করেন, যার ফলে ৬৬তম মিনিটে হানি নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন। ছবি: এক্স
Advertisement
Advertisement

সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বেলজিয়াম ও মিসর। ‘জি’ গ্রুপের এই উদ্বোধনী ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে দুই দল।

বদলি খেলোয়াড় হিসেবে বেঞ্চ থেকে মাঠে নেমে বেলজিয়ামের হয়ে মূল্যবান এক পয়েন্ট উদ্ধার করেন রোমেলু লুকাকু। তার কারণে নিশ্চিত হারের হাত থেকে বেঁচে যায় ইউরোপের রেড ডেভিলরা।

নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া মিসর টুর্নামেন্টে তাদের ইতিহাসের প্রথম জয়ের খোঁজে রয়েছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাতে তারা সেই ঐতিহাসিক ফলাফলের একদম দ্বারপ্রান্তেও পৌঁছে গিয়েছিল।

ম্যাচের ২০তম মিনিটে মোহামেদ সালাহর অ্যাসিস্ট থেকে ইমাম আশুরের দুর্দান্ত এক গোল আফ্রিকান দলটিকে এক যোগ্য লিড এনে দেয়। ডি-বক্সের লাইনে সালাহর কাছ থেকে পাস পেয়ে ডান পায়ের এক নিখুঁত শটে বেলজিয়ামের তারকা গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন তিনি।

আশুরের নেওয়া শটটি কোর্তোয়ার কিছু করার সুযোগ না দিয়ে জালের নিচের কোণ দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। এই উচ্চমানের পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে প্রথমার্ধ জুড়ে লিড ধরে রাখে মিসরীয়রা।

ম্যাচের বেশিরভাগ সময় জুড়ে বেলজিয়ামের খেলা ছিল বেশ মন্থর এবং নিষ্প্রাণ। প্রথমার্ধে মিসরকে মাঠে বেশি চটপটে দেখিয়েছে। তারা বেলজিয়ামের মিডফিল্ডকে দারুণভাবে চেপে ধরেছিল এবং কেভিন ডি ব্রুইনার কার্যকারিতাকে একদম সীমিত করে রেখেছিল।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে লুকাকুর প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বেলজিয়াম দলের চেহারা বদলে যায়। অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকার মাঠে নেমেই তাৎক্ষণিকভাবে মিসরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানির ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেন।

আরও পড়ুন

লুকাকুর সেই চাপ সামলতে গিয়ে ৬৬তম মিনিটে হানি ভুলবশত নিজেদের জালে বল জড়িয়ে বসেন। এই দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোলের ফলে ম্যাচে ১-১ ব্যবধানে সমতা ফেরে এবং মিসরের জয়ের স্বপ্ন ভাঙার উপক্রম হয়।

অবশ্য সমতায় ফেরার পর বেলজিয়ামও কিছু ভালো সুযোগ পেয়েছিল। যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া ডি ব্রুইনার একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসা। এর পরপরই একদম কাছ থেকে গোল করার এক সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে তারা।

ম্যাচের শেষ দিকে লুকাকু জয়সূচক গোলটি এনে দিতে পারতেন। তবে রাসকিনের একটি ক্রস থেকে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও তার নেওয়া হেডটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। হেড মিস করার এই ঘটনাটি বেলজিয়ামের একটি অম্ল-মধুর বিকালকে ফুটিয়ে তুলেছে।

বেলজিয়ামের পক্ষে তাদের সোনালী প্রজন্মের অবশিষ্টাংশদের মাঠে দেখা গেলেও তারা খুব একটা আধিপত্য বিস্তার করতে পারেননি। ডি ব্রুইনা এবং কোর্তোয়া উভয়েই তাদের চেনা ছন্দের অনেক নিচে ছিলেন এবং মিসরের একরোখা রক্ষণভাগকে ভাঙার জন্য দলটিতে প্রায়শই বোঝাপড়ার অভাব লক্ষ্য করা গেছে।

অন্যদিকে ম্যাচের দিনই ৩৪ বছরে পা দেওয়া মিসরীয় মহাতারকা মোহামেদ সালাহ তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলছিলেন। মিসরের জন্য একটি ভালো ফলাফলের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ৭৬তম মিনিটে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয় এবং তার পরিবর্তে তরুণ হামজা আবদেলকারিমকে মাঠে নামানো হয়।

এই পারফরম্যান্স থেকে মিসর নিশ্চিতভাবেই অনেক বড় গৌরব নিতে পারে। ম্যাচের একটি বড় অংশ জুড়ে তারাই মূলত শ্রেয়তর দল ছিল। একটি দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোলের শিকার না হলে তারা এমন একটি ফলাফল নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত, যা তাদের বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ জয় হিসেবে গণ্য হতো।

১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে খেলেও কোনো জয় পায়নি মিসর। ওই তিন আসরের সাত ম্যাচে তাদের অর্জন বলতে ছিল কেবল দুটি ড্র। সেই আক্ষেপের তালিকায় যোগ হলো এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের সঙ্গে করা এই ড্রটি।

১ পয়েন্ট করে নিয়ে মাঠ ছাড়া দুই দল এখন খুব ভালো করে জানে, গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে কেবল এক পয়েন্ট করে পাওয়া পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার টিকিট নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট হবে না।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad