জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ তারিখ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। এটি অতীতের মতো কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। প্রায় সাড়ে ১৪শ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই নির্বাচন এবং আন্দোলনে পঙ্গুত্ব বরণ করা ৩৪ হাজার আহতের ত্যাগের নির্বাচন। শহীদ পরিবারের হাহাকারকে সামনে রেখে জাতিকে এই নির্বাচনে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বুধবার বিকালে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনে দুটি ভোট রয়েছে। প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতবে, আর ‘না’ ভোট জিতলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামী।
তিনি আরও বলেন, যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকবে তারা প্রমাণ করবে যে তারা চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলাবাজি কিংবা মা-বোনদের অপমানের সঙ্গে নেই। তারা থাকবে নতুন বাংলাদেশের পক্ষে এবং ২৪-এর আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে।
শফিকুর রহমান বলেন, দ্বিতীয় ভোটটি হচ্ছে দেশ গড়ার ভোট। যারা অতীতে সুযোগ পেয়েও দুর্নীতিতে জড়িয়েছে কিংবা এখনও দুর্নীতিতে লিপ্ত, তাদের আর নতুন করে সুযোগ দেওয়ার কিছু নেই।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য ১১টি দল একত্রিত হয়েছে। প্রত্যেক দল নিজেদের সম্মান-মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে একসঙ্গে কাজ করে বিজয় অর্জন করবে।
জামায়াত আমির বলেন, গত ৫৪ বছরে অনেক নির্বাচন হয়েছে, সরকারও গঠন হয়েছে। কিন্তু ভোটের আগে দেওয়া ওয়াদাগুলো ভোটের পর বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বৈষম্য বেড়েছে, অপরাধ চরমে উঠেছে, দুর্নীতি সমাজকে ডুবিয়ে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে যুব সমাজ ফুঁসে উঠেছিল।
তিনি বলেন, যুব সমাজ একটাই স্লোগান তুলেছিল–‘উই মাস্ট জাস্টিস’। তারা ন্যায়বিচার, অধিকার, শিশুর শিক্ষা, যুবকদের কাজ, নারীদের নিরাপত্তা, ব্যবসায়ীদের শান্তিতে ব্যবসা এবং শ্রমিক-কৃষকের ন্যায্য অধিকার চেয়েছে।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যে যুবকরা খালি হাতে মুক্তি আনতে পেরেছে, তারা ১২ তারিখেও বিজয় অর্জন করবে। যুব সমাজ বেকার ভাতা চায় না, তারা কাজের অধিকার চায়।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যুবকদের হাতকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে।
এ সময় শফিকুর রহমান টাঙ্গাইল জেলার আটটি আসনের দলীয় ও শরিক দলের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলাকলি প্রতীক তুলে দেন।
টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, জেলা সেক্রেটারি মো. হুমায়ুন কবীর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লা হায়দারসহ জামায়াত ও শরিক দলের নেতারা।
এর আগে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পৌর উদ্যান এলাকা। জনসভাকে কেন্দ্র করে সেখানে জনস্রোতে পরিণত হয় পুরো পরিবেশ।


