আগামীতে ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘২৪ সালে অভ্যুত্থান দিয়ে দেশকে রক্ষা করেছি। এখন দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। ধর্মের পরিচয়ে আর কাউকে বিচার করা হবে না। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা কে কোন ধর্মের তা দেখিনি, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানেও একই ঘটনা ঘটেছে। এই দেশে হাজার বছর ধরে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে, আগামীতেও তাই হবে।’
শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপি নির্বাচিত হলে প্রত্যেক নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চায় জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘নারীকে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশ এগিয়ে যাবে না। খালেদা জিয়া বিনামূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাই।’
ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সহজে ঋণ নেওয়া যাবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করতে চাই। এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ যেসব নেওয়া হয়েছে, সেসব সরকারের হয়ে জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করতে চাই।’

বাংলাদেশই বিএনপি নেতাকর্মীদের শেষ ঠিকানা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলতেন বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনো ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস করে বাংলাদেশ তাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। এজন্য আমরা জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছি। আমরা আরেকবার জনগণের শক্তিতে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ তাদের কাছে থেকে কেড়ে নেওয়া ভোটাধিকার ফিরে পাবে বলে মনে করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নয়, দেশ পুনর্গঠনেরও নির্বাচন। নির্বাচনী জনসভায় এক দল আরেক দলের বিপক্ষে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না। জনগণ জানতে বরং জানতে চায়- আমরা মানুষের জন্য কী করব। তাই আমরা আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছি।’
জনসভায় ঠাকুরগাঁওয়ের লাখো মানুষের উদ্দেশে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই এলাকা কৃষিনির্ভর। আমরা যেমন কৃষকদের পাশে দাঁড়াব তেমনভাবে এই এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প বিকশিত করব, যাতে কর্মসংস্থান হয়। দেশের অসংখ্য বেকার যুবকদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ শ্রমিক করতে চাই। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা লাগবে।’
এ সময় ঠাকুরগাঁওয়ে জনগণের দাবির বিষয়ে তারেক রহমান। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে চিনিকল, তাঁতশিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা এই অঞ্চলে ক্যাডেট কলেজ করার দাবি জানিয়েছেন, সেই চেষ্টা করা হবে। পুরো এলাকায় আমরা কৃষকদের জন্য হিমাগার করে দিতে চাই। মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ও করা হবে।’ বিএনপি ক্ষমতায় এলে যত দ্রুত সম্ভব ঠাকুরগাঁও এয়ারপোর্ট চালু করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।


