পাবনার বেড়া উপজেলার কৈটোলা ইউনিয়নে প্রয়াত পাখিবন্ধু আকাশকলি দাসের গড়ে তোলা পাখির অভয়াশ্রম সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
জনস্বার্থ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পাবনার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মৎস্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেয়।

আদালতের এ আদেশকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদী, সচেতন নাগরিক ও প্রাণী অধিকারকর্মীরা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উত্তরবঙ্গের আলোচিত এই পাখির অভয়াশ্রম রক্ষায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ ১০টি সরকারি দপ্তরে আইনি নোটিশ পাঠায় লইয়ার্স সোসাইটি ফর ল। তবে দীর্ঘ সময়েও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ১২ মে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মেজবাহুল ইসলাম আসিফ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
শুনানি শেষে অ্যাডভোকেট মেজবাহুল ইসলাম আসিফ বলেন, কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার কারণে জনস্বার্থ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্টদের অভয়াশ্রম সংরক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে অভয়াশ্রম রক্ষায় অবহেলা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
প্রায় ৮ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই অভয়াশ্রমটি তৈরি করেছিলেন চিরকুমার আকাশকলি দাস। পরিকল্পিত বনায়নের মাধ্যমে গড়ে তোলা এই আশ্রয়স্থল বন্যপ্রাণী ও পাখির নিরাপদ আবাস হিসেবে পরিচিতি পায়। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অবদানের জন্য তিনি ‘অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন-২০২৪’সহ বিভিন্ন পুরস্কার পান।

তবে গত বছরের ১৮ আগস্ট আকাশকলি দাসের মৃত্যুর পর থেকেই অভয়াশ্রমটি সংকটে পড়ে। কয়েক মাস পর অসিত ঘোষ, অসীম ঘোষ এবং মোহাম্মদ আলী নামে তিন ব্যক্তি পুরো অভয়াশ্রম ও তার সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, মালিকানা দাবিদারদের পক্ষ থেকে অভয়াশ্রমের গাছ কাটা ও পাকা স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি করা হয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশজুড়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, আদালতের লিখিত নির্দেশনা এখনও হাতে পৌঁছেনি। নির্দেশনা পাওয়ার পর যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।


