মোস্তাফিজুর রহমান, স্বল্পভাষী মানুষ। মিডিয়া ফ্রেন্ডলি বলতে যা বোঝায়, তিনি তেমন কিছুই নন। আগে সংবাদ সম্মেলনে কালেভদ্রে হয়তো পাওয়া যেত। নিদেনপক্ষে দুই-একটা সাক্ষাৎকারে হলেও তৃষ্ণা মিটত সবার। তবে গেল চার-পাঁচ বছরে তার উপস্থিতি কেবল খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ। যেখানে নিজের কাজটা ঠিকঠাক করে যেতে পারলেই খুশি এই বাঁহাতি পেসার।
এদিকে উগ্রবাদীদের হুমকিতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ পড়ার পর তাকে ঘিরে লংকাকান্ড হয়ে গেছে ক্রিকেট বিশ্বে। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যেতে চায়নি বাংলাদেশ, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ছাড়াই হচ্ছে বিশ্বকাপ। সেই সূত্রে গাঁথা ঘটনার ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানও খেলতে রাজি নয় ভারতের বিপক্ষে। বর্জন করেছে বহুল আকাঙ্খিত ম্যাচ।
তবুও যাকে কেন্দ্র করে এতকিছু, সেই মোস্তাফিজের কোনো হেলদোল নেই। সবকিছু নিয়ে তিন শব্দে বলে দিয়েছেন, ‘লেট ইট গো।’ তাও নিজে সাংবাদিকদের বলেননি। বুধবার জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের কাছ থেকে জানা গেল মোস্তাফিজের বক্তব্য।
বৃহস্পতিবার তিন দল নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ ২০২৬। তিন দলের একটি ধুমকেতু, যার দায়িত্বে সালাহউদ্দিন, একই দলে খেলবেন মোস্তাফিজও। বুধবার দলীয় অনুশীলন শেষে তাই সালাহউদ্দিনের কাছে প্রশ্ন গেল মোস্তাফিজকে নিয়ে। জানতে চাওয়া হয়, মোস্তাফিজ কী ভাবছেন তার আইপিএল থেকে বাদ পড়া নিয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এই প্রশ্নটা আমি নিজে মোস্তাফিজকে করেছিলাম, যে তুমি কী ফিল করছো? ও বলেছে লেট ইট বি, মানে যা চলে যাওয়ার সেটা চলেই গেছে। সবাই তো আর মোস্তাফিজের মতো হতে পারবে না।’
এবারের আইপিএলে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে টেনেছিল কলকাতা, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে রেকর্ড মূল্য। কিন্তু গত ৩ জানুয়ারি বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকেও বাদ দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে এ নিয়ে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই মোস্তাফিজের।
তার ব্যাখাটা দিলেন কোচ সালাহউদ্দিন, ‘আমার মনে হয়, মোস্তাফিজের কাছ থেকে এটা ভালো জিনিস শেখার মতো। এতগুলো টাকা বলেন বা যা–ই বলেন—ও তো হতাশায় ভুগতে পারত। কিন্তু সে জানে যে এটা আসলে নিয়ন্ত্রণে নেই। তার হাতে তো ছিল না। মোস্তাফিজের কাছ থেকে আমি এটা শিখেছি এবং অন্যরাও হয়তো এটা থেকে শিখবে।’


