দুষ্ট চক্র তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ আইডি হ্যাক করে মায়েদের প্রতি অপমানজনক কথা ছড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘দুষ্ট চক্র আমার আইডি হ্যাক করে মায়েদের প্রতি অপমানজনক একটি কথা ছেড়ে দিয়েছে। এরা ডাকাত, এরা কাপুরুষ। আমরা মায়েদের সম্মানকে উঁচু করে তুলে ধরতে চাই।’
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ইশতেহার অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে নিহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত শেষে রোববার দুপুরে তিনি এসব কথা বলেন।
‘একটি আসনের জন্য মানুষ হত্যা’
নির্বাচনকে ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সামান্য একটি আসনের জন্য মানুষ খুন করে ফেলতে হবে? একটি ভোটের জন্য, একটি আসনের জন্য মানুষ কী করে এতটা পাষাণ, বেপরোয়া, নির্দয় হতে পারে?’
তিনি বলেন, এ নির্বাচন জনগণের, তাই সিদ্ধান্তও জনগণের হাতে। দীর্ঘদিন ধরে জাতি অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, সারা জাতি মজলুম ছিলাম। আমরা জুলুমের পথ থেকে এখন আলোর পথ দেখছি। কিন্তু এই সময় যদি এ ধরনের খুনের ঘটনা ঘটে, তাহলে আগামীর ভবিষ্যৎ কী?’
হত্যার বিচার জনগণের কাছে দিয়ে দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, এখন পর্যন্ত একটি আসামিও গ্রেপ্তার করা হয়নি। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে কারা জড়িত। আমরা চাই, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করুক।’
কবর জিয়ারতে কাঁদলেন জামায়াত আমির
রোববার সকালে শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারে শ্রীবরদীর গোপালখিলা উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে পৌঁছান। এরপর কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে নিহত রেজাউল করিমের বাড়িতে যান।
বাড়িতে পৌঁছে তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, খোঁজখবর নেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। পাশাপাশি ধৈর্য ধারণের পরামর্শ দেন।
এ সময় শহীদ রেজাউল করিমের তিন বছরের শিশুপুত্রকে কোলে তুলে নেন জামায়াত আমির। শিশুটিকে জড়িয়ে ধরে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পরে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি শহীদ রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তার রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করা হয়।
এ সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক ছামিউল হক ফারুকী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গ্রামবাসী।


