বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জরুরি ও সমন্বিত কার্যক্রম শুরু করেছে।
অ্যানথ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত জুনোটিক রোগ, যা গবাদিপশু থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে টিকাদান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, উঠান বৈঠক, পথসভা, লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
অধিদপ্তর জানায়, রংপুর ও গাইবান্ধাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান রংপুর বিভাগে প্রায় ৩০ লক্ষ অ্যানথ্রাক্স টিকা সরবরাহ করবে, যার মধ্যে ২০ লক্ষ রংপুর ও গাইবান্ধার জন্য বরাদ্দ থাকবে।
রংপুর জেলার নয়টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পীরগাছায় ৫৩ হাজার ৪০০, কাউনিয়ায় ৩৪ হাজার, রংপুর সদরে ২৬ হাজার ৫০০, মিঠাপুকুরে ৩৪ হাজার ৫০০, গংগাচড়ায় ৪ হাজার ৮০০, তারাগঞ্জে ৪ হাজার ৩০০, বদরগঞ্জে ৫ হাজার এবং পীরগঞ্জে ৫ হাজার গরুর টিকা দেওয়া হয়েছে। জেলার ৩৬টি কসাইখানায় পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। টিকাদানের জন্য মিঠাপুকুরে ১৭টি, পীরগাছায় ৮টি এবং কাউনিয়ায় ৭টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ২৬ হাজার ৪০০ গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় মৃত পশু গভীরভাবে মাটিচাপা, টিকাদান, মাইকিং, উঠান বৈঠক এবং লিফলেট বিতরণের মতো কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং পাঁচটি ভেটেরিনারি টিম কাজ করছে।
রোগ নির্ণয়ের জন্য সংগ্রহ করা ১১টি রক্তের নমুনা নেগেটিভ পাওয়া গেলেও ১১টি মাংসের নমুনার মধ্যে ১০টি পজিটিভ এসেছে। পরিস্থিতি মূল্যায়নে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে, যারা আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, অসুস্থ পশু জবাই না করা, মৃত পশু খোলা জায়গা বা পানিতে না ফেলা, বরং মাটিচাপা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত উঠান বৈঠক ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অধিদপ্তর বলেছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই অ্যানথ্রাক্স নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।


