অস্ত্র মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় সম্রাট পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, ‘তার কাছে বৈদ্যুতিক শক মেশিন, বিশেষ লাঠি এবং অ্যাম্ফিটামিনভিত্তিক মাদক ইয়াবা ট্যাবলেট ছিল, যা গোপন কক্ষে মানুষকে নির্যাতন করার জন্য ব্যবহৃত হতো। আমরা নিশ্চিত নই, তিনি এগুলো ব্যবহার করে কতজনকে নির্যাতন করেছেন। শুধু তাই নয়, এফআইআরে তাকে ‘ক্যাসিনোর সম্রাট’ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং ক্যাসিনো ব্যবসার জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রায় ১০টি ক্লাবের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল।’
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি সরকারি-বেসরকারি অফিসে চাঁদাবাজির জন্য একটি ক্যাডার বাহিনী গঠন করেন। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি অত্যাধুনিক পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি। সব বিবেচনায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে র্যাব সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে। পরে ঢাকার কাকরাইলের তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়, যেখানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া উদ্ধার করা হয়। বন্যপ্রাণীর চামড়া রাখার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়।
এর পরদিন ৭ অক্টোবর র্যাব-১-এর ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর র্যাব-১-এর উপপরিদর্শক (এসআই) শেখর চন্দ্র মল্লিক অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন।
চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। মামলার বিচারকাজ চলাকালে মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।


