সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চলমান অবরোধ কর্মসূচির তৃতীয় দিনে স্বাভাবিক রয়েছে যান চলাচল।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল করতে দেখা যায়। তবে এদিন সকাল ৯টার দিকে পুখুরিয়া এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে আসেন কয়েকজন স্থানীয় জনতা। এ সময় পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।
ভাঙ্গা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাফুর আহমেদ জানান, সকালে ভাঙ্গা হয়ে খুলনা থেকে নকশিকাঁথা কমিউটার ও জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ঢাকায় এবং সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলনা গেছে। রেলপথে কোনো প্রতিবন্ধকতার খবর পাওয়া যায়নি।
ভাঙ্গা থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং জনসাধারণ অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার না হন।’
পুলিশ মাঠে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে পুকুরিয়াতে স্থানীয়রা মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আমরা তাদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছি। ফলে ঢাকা-বরিশাল ও খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’
এলাকাবাসী জানান, হামিরদী ও আলগী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ, পুকুরিয়া, সুয়াদী এলাকার মহাসড়কে সংলগ্ন বাজার ও দোকানপাটগুলো কম খুলেছে। সবার মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও ভয় কাজ করছে।
আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এরপরই সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে রোববার থেকে টানা তিনদিনের সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে এলাকাবাসী।
সোমবার তাদের সেই অবরোধ কর্মসূচি সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙ্গা থানা ও উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে অগ্নিসংযোগও করা হয়।
এর আগে আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিককে রোববার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং একশ থেকে দেড়শ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করে পুলিশ।


