জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বাতিল ও সংশোধনের জন্য প্রস্তাবিত বিভিন্ন অধ্যাদেশ নিয়ে দলীয় পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে এবং একটি অবস্থানপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা পরে সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠানো হবে।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, কিছু অধ্যাদেশের মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, আবার যেগুলোতে জবাবদিহি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে, সেগুলো বাতিল করা হচ্ছে। তার ভাষায়, এটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালনার কথা থাকলেও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, এতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ বা চাপের মধ্যে রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘পূর্ববর্তী একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের হাতে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের অপসারণের ক্ষমতা রাখা হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
গোপনীয়তা ও তথ্য অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের কল ও বার্তা পর্যবেক্ষণের সুযোগ ছিল এবং আদালতের অনুমতি ছাড়াই তা করা হতো। পরে একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আনা হলেও সেটি এখন বাতিলের পথে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এতে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আবার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অধ্যাদেশগুলো প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা ছিল, তবে বর্তমানে তারা অনেক বিষয়ে নীরব।’
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়ছে এবং অতীতের মতো “কিংস পার্টি” তৈরির প্রক্রিয়া আবার দেখা যাচ্ছে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত সংস্কারের অংশ এবং জনগণ এতে সমর্থন দিয়েছে বলে এনসিপির অবস্থান। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই রায় উপেক্ষা করা হলে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতির কারণে এনসিপিকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি সংলাপ ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনের তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ও চলমান সংস্কার অধ্যাদেশগুলো আইন হিসেবে কার্যকর করা উচিত এবং যেসব অধ্যাদেশ বিশেষ পরিস্থিতিতে করা হয়েছিল, সেগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।


