ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করেছেন মামলার বাদী সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে বাদী এই আবেদন দাখিল করেন। তবে আদালত নারাজির আবেদন গ্রহণ করে আদেশ অপেক্ষমান রেখেছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল এতথ্য নিশ্চিত করেন।
বাদীর চার্জশিটের ওপর নারাজির আবেদন দাখিল করে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল আদালতে বলেন, ‘এই চার্জশিট কেবলমাত্র জমা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল বলেই তদন্ত কর্মকর্তা দিয়েছেন। এখানে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে হত্যাকারী শুটারদের কী সম্পর্ক তা উল্লেখ করা হয়নি। হাদি কোনো সাধারণ মানুষ ছিল না। তাকে হত্যার জন্য অবশ্যই বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল। এজন্য তাকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়েছে। যেন কেউ আর হাদির মতো ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস না পায়।’
এ আইনজীবী আদালতে আরও বলেন, ‘পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে আওয়ামী লীগের একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কথা বলা হয়েছে। এটা হাস্যকর। একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের এ সাহস করার কথা না। অবশ্যই বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল। এজন্য এ চার্জশিটের ওপর আমরা নারাজি দিয়েছি। এখানে শুধু ফয়সালকে দেখানো হয়েছে। এটা কী ধরনের তদন্ত? প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার পর সে কিভাবে সেফ এক্সিট পায়? কিভাবে হত্যাকারী-পরিকল্পনাকারীকে পালাতে সাহায্য করা হলো তাদের কথা বলা হয়নি চার্জশিটে।
এই আইনজীবী আরো বলেন, শরিফ ওসমান হাদি বারবার বলতেন ন্যায় বিচারের কথা। আমরা ন্যায় বিচারের স্বার্থে নারাজি দিয়েছি।
গত ৬ জানুয়ারি এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গত ১২ জানুয়ারি মামলার বাদী আদালতে হাজির হয়ে পুলিশের দেওয়া চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় নেন। আদালত ওইদিন চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেন।
চার্জশিটের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ, ফয়সালের সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার। তারা সবাই পলাতক।
বাকী ১১ আসামি কারাগারে আটক রয়েছেন। তারা হলেন ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কবির, সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু ও নরসিংদীতে অস্ত্রসহ আটক মো. ফয়সাল।
তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে পলাতক ৬ আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। পাশের একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান ওসমান হাদি।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন। পরবর্তীতে এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।


