সিলেট চিড়িয়াখানা: ভাঙা খাঁচায় ভঙ্গুর প্রতিশ্রুতি

সিলেট চিড়িয়াখানা: ভাঙা খাঁচায় ভঙ্গুর প্রতিশ্রুতি
সিলেট চিড়িয়াখানার খাঁচায় ম্যাকাও। ছবি: এ এম আরেফিন/ টাইমস
Advertisement
Advertisement

একসময় দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকা সিলেটের টিলাগড়ের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র ও চিড়িয়াখানাটি এখন অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে নানা সংকটে জর্জরিত। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের তৃতীয় চিড়িয়াখানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃতিপ্রেমী, গবেষক ও পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হবে বলে আশা করা হয়েছিল।

ছবি: এ এম আরেফিন/ টাইমস

কিন্তু বছরের পর বছর ধরে অব্যবস্থাপনা, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং প্রাণীদের যথাযথ পরিচর্যার অভাবে চিড়িয়াখানাটি স্থাপনের পর, যা প্রত্যাশা করা হয়েছিল তা পূরণ হয়নি। চিড়িয়াখানার অনেক খাঁচা ও বেষ্টনী এখন কতটা অবহেলিত, তা এই চিড়িয়াখানার সার্বিক চিত্র দেখলে বোঝা যায়। রোজ সেখানে এখন খালি খাঁচা, ক্ষতিগ্রস্ত পাখির খাঁচা এবং জরাজীর্ণ স্থাপনায়  চোখে পড়ে। দুটি জেব্রা মারা গেছে,তাদের বেষ্টনীটি এখন খালি পড়ে আছে। বাঘ আনার পরিকল্পনা করা হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, তবে তাদের জন্য নির্মিত খাঁচাগুলো পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়।

ছবি: এ এম আরেফিন/ টাইমস

একসময় চিড়িয়াখানায় বেশ কয়েকটি ময়ূর ছিল, এখন টিকে আছে মাত্র দুটি। এ ছাড়া দুটি ম্যাকাও ও তিনটি টিয়া পাখি রয়েছে। তবে পাখিদের জন্য নির্মিত খাঁচাগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। বিভিন্ন স্থানে বেষ্টনী ও কাঠামো ভেঙে গেছে।

ছবি: এ এম আরেফিন/ টাইমস

অবহেলার চিত্র শুধু প্রাণীদের বেষ্টনীতেই সীমাবদ্ধ নয়। দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধার অবস্থাও দিন দিন খারাপ হচ্ছে। চিড়িয়াখানার ক্যান্টিন প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ। প্রাণীদের পরিচর্যার ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে।

আরও পড়ুন

ছবি: এ এম আরেফিন/ টাইমস

ফলে ধীরে ধীরে চিড়িয়াখানাটি তার আকর্ষণ হারাচ্ছে এবং দর্শনার্থীর সংখ্যাও ক্রমেই কমে যাচ্ছে। তবে বর্তমান দুরবস্থার পরও সিলেট চিড়িয়াখানার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বনঘেরা মনোরম পরিবেশে অবস্থিত হওয়ায় এটিকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বন্যপ্রাণী পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করার মতো প্রাকৃতিক সুবিধা এখানে রয়েছে।

ছবি: এ এম আরেফিন/ টাইমস
ছবি: এ এম আরেফিন/ টাইমস

সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, উন্নত প্রাণী আবাসস্থল, পেশাদার ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানকে সংরক্ষণ, প্রাণী বিষয়ক শিক্ষা ও ইকো-ট্যুরিজমের একটি আধুনিক কেন্দ্রে রূপান্তর করা সম্ভব। দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা পুনরুদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্ত বেষ্টনী মেরামত এবং প্রাণীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা গেলে জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।

সিলেট চিড়িয়াখানা শুধু খালি খাঁচা আর হারিয়ে যাওয়া দিনের স্মৃতি হয়ে থাকার টিকে থাকার জন্য নয়। পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনায় এটিকে রক্ষা করে, পুরোনো রুপে ফেরাতে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি এবং বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর