সিলেট নগরীতে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
চারদিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা তার জবানবন্দি নেওয়া হয়। পরে রাত ৯টার দিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের আদালত পরিদর্শক সৈয়দ মাহবুবুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আসামি বাবুল মিয়া দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বাবুল জবানবন্দিতে নতুন কোনো তথ্য দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, তদন্তের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখন প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বাবুল মিয়াকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে তোলা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে জবানবন্দি শেষে তাকে আদালত থেকে বের করা হয়।
গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন।
এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে ১৪ আগস্ট রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। তবে অভিযোগে তিনি হত্যাকাণ্ডে পুলিশের হাতে আটক বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করেননি।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আইনজীবী ও ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করেন সেলিনা। মামলার এজহারে সেলিনা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তার বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।


