রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে স্থবিরতা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে স্থবিরতা
অবকাঠামোগত নানা সংকট ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো শেখ রাসেল মডেল স্কুল ভবনে ঝুঁকি নিয়ে সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুশীলন ও কার্যক্রম পরিচালনা করছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

জায়গা, অবকাঠামো ও পরিবেশগত সংকটের কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি নির্মাণেও নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি।

গত বছরের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের আগে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো রাকসু ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করত। নির্বাচনের পর প্রশাসন তাদের পুরোনো শেখ রাসেল মডেল স্কুলে স্থানান্তর করে।

সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, নতুন ভবনে পর্যাপ্ত জায়গা, আলো-বাতাস, পানি ও পরিচ্ছন্নতার সংকট রয়েছে। কক্ষগুলো সংকীর্ণ, অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে। অনেক জানালা ভাঙা, টিনের চালা নাজুক এবং কোথাও কোথাও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় বাদ্যযন্ত্র নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি নাসিম আহমেদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগরের তুলনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন কমছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করা সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জন্য এমন পরিবেশ অত্যন্ত দুঃখজনক। বৃষ্টির সময় ভবনের টিন দিয়ে পানি ঢুকে অতিরিক্ত আর্দ্রতায় বাদ্যযন্ত্র নষ্ট হচ্ছে। ছোট কক্ষের কারণে পর্যাপ্ত অনুশীলন করা সম্ভব হয় না।’

সমস্যার কথা বারবার জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবনের ভেতর ও সামনের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক রিফাইয়া রাজ্জাক রিফা বলেন, ‘পুরোনো শেখ রাসেল মডেল স্কুলে রাকসু ভবনের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ জায়গাও নেই। ফলে নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনায় আমাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আলো ও খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সন্ধ্যার পর নারী সদস্যদের জন্যও জায়গাটি অস্বস্তিকর, পাশাপাশি সাপের ভয়ও রয়েছে। সংস্কারের জন্য আবেদন করে উপাচার্যের অনুমোদন পেলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি।’

আরও পড়ুন

রাকসুর সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা বলেন, ‘শুরু থেকে ভবনটি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা একাধিকবার রাকসুর অধিবেশন ও প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে এ বাজেট অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাজেটে রাখা হয়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) আব্দুল আলিম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গেও এ বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

গত বছরের ১৬ অক্টোবরের রাকসু নির্বাচনে জয় পাওয়া ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য যে ২৪টি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি নির্মাণও ছিল। তবে ১০ মাসেও এর দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

এ বিষয়ে জায়িদ হাসান জোহা বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি নির্মাণ একটি বড় প্রকল্প। নতুন কয়েকটি হল নির্মাণের জন্য যে বাজেট আসছে, তার সঙ্গে টিএসসিসির বাজেটও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

নির্বাচনের পর প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও কাওয়ালি ও ইসলামি সংগীতের অনুষ্ঠান ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়নি–এমন অভিযোগ রয়েছে রাকসুর বিরুদ্ধে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল টাইমসকে বলেন, ‘রাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের অর্থে জামায়াতি মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার বাইরে কিছুই ভাবতে পারেননি। এ কারণে কাওয়ালি ও ইসলামি সংগীতের অনুষ্ঠান ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়নি। সব মত ও পথের শিক্ষার্থীদের ধারণ করতে না পারা শিবির-সমর্থিত প্যানেলের অক্ষমতা। ভবিষ্যতে প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আরও সতর্ক হতে হবে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জায়িদ হাসান জোহা বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ন্যারেটিভ। আমি জাতীয় সংস্কৃতির প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। কাওয়ালি হয়েছে মাত্র একটি প্রোগ্রামে। অথচ সেটাকে ইস্যু করে ফ্রেমিং করা হচ্ছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর