মেহেরপুরে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ায় মরিচের দামে সন্তুষ্ট নন কৃষকরা।
শুক্রবার পাইকারি বাজারে মরিচ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। বৃহস্পতিবার ওই বাজারে মরিচ বিক্রি হয়েছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়।
দুপুর সাড়ে ১১ টায় চাষিরা পাইকারি বাজারে মরিচ নিয়ে আসেন। বেশি দামের আশায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
চাষিদের অভিযোগ, আড়তদাররা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করিয়ে কম দামে মরিচ কিনতে চান। শুক্রবার হওয়ায় কৃষকদের বাড়ি ফেরার তাড়া থাকে।
আড়পাড়া গ্রামের মরিচ চাষি ইয়ামিন হোসেন বলেন, ‘সরকারি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। টিএসপির সরকারি দর ২৭ টাকা হলেও দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। কীটনাশকের দামও অনেক বেশি। এগুলো দেখার কেউ নেই।’
ধানখোলা গ্রামের কৃষক পলাশ হোসেন জানান, বর্তমান বাজারদর বেশি মনে হলেও বৃষ্টিতে খেত নষ্ট হয়েছে। এক বিঘা জমি থেকে এক মণ মরিচও পাওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টির কারণে গাছে ফুল ও ফল ধরছে না। সার ও কীটনাশকের চড়া খরচের তুলনায় এই দাম কম।
গাংনী কাঁচা বাজারের আড়তদার সাহাদুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টিভেজা মরিচ ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠালে পচে নষ্ট হয়। পাইকাররা মরিচ কিনতে চাচ্ছেন না। ফলে দাম কমতির দিকে। সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করলে এই দাম বেশি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জিত মৃধা জানান, অবিরাম বৃষ্টির কারণে মরিচের পরাগায়নে সমস্যা হচ্ছে। হালকা বাতাসে গাছ নুইয়ে পড়ে মারা যাচ্ছে। খেত রক্ষায় কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।


