গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও দুইজনের বিরুদ্ধে গত বছরের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ জানানো হবে বৃহস্পতিবার। দিনটি সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে হাইকোর্ট এলাকায়।
হাইকোর্টের চারপাশে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবির সদস্যরাও অবস্থান নিয়েছেন। তারা গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে ব্যাগ তল্লাশি ও যানবাহন থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মোর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী আজ রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করবেন।
এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। মামলায় আবদুল্লাহ আল-মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীতে পরিণত হয়েছেন।
শুরুতে শুধু শেখ হাসিনাই ছিলেন এই মামলার একমাত্র আসামি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার অপসারণের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর মামলাটি করা হয়। পরে চলতি বছরের ১৬ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ট্রাইব্যুনাল সাবেক আইজিপি মামুনকে সহআসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।
গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা পড়ে এবং ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। ১০ জুলাই পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়, যার মধ্যে ছিল সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া এবং রংপুর, ঢাকা ও আশুলিয়ায় একাধিক হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন। দুজনই পলাতক রয়েছেন; মামুন বর্তমানে কারাগারে আছেন।
এদিকে বাড়তি উত্তেজনার মধ্যে বুধবার সাংবাদিকদের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কোনো অস্থিরতার চেষ্টা ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে।
‘বিচারকাজ স্বচ্ছভাবে ও আইন অনুযায়ী চলছে। অনিয়মের অভিযোগ প্রচারণার অংশ,’ বলেন তিনি।
সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইকোর্ট এলাকা সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। রোববার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে পুলিশ ও আদালত নিরাপত্তা শাখাকে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়।
গত বছরের ১৪ আগস্ট করা এই মামলাটি সরকার পরিবর্তনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিচার। এ মামলায় ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।


