ফরিদপুর শহরের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আমিন খান (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রে শারীরিক নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার ‘আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। রোববার দুপুর ১টার দিকে আমিন খানের মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানায় কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে স্বজনেরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পান।
নিহত আমিন খান বোয়ালমারী উপজেলার ছোলনা গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় প্রবাসজীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর সম্প্রতি বোয়ালমারী বাজারে ‘আমিন খান ট্রেডার্স’ নামে একটি ব্যবসা শুরু করেন।
পরিবার ও নিরাময় কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আমিনের মধ্যে মানসিক ও আচরণগত কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে তাকে আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছিল।
মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে আমিনের দুই হাত ও পায়ে দড়ি দিয়ে বাঁধার গভীর দাগ দেখতে পান বলে দাবি করেছেন তার স্বজনেরা।
নিহতের ভাই রবিউল খান বলেন, দুপুর ১টার দিকে ফোন করে তাকে আমিনের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। এরপর কেন্দ্রে গিয়ে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে অসংগতি দেখতে পান তারা।
রবিউলের দাবি, নিরাময় কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মৃত্যুর আগে গভীর রাতে আমিনকে হাত-পা বেঁধে চেপে রাখা হয়েছিল। তার অভিযোগ, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; নিরাময় কেন্দ্রে শারীরিক নির্যাতন ও টর্চারের কারণেই তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা হাকিম মোল্লার অভিযোগ, ওই নিরাময় কেন্দ্রে বিভিন্ন সময়ে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মারধর ও চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। তার দাবি, কেন্দ্রটি পরিচালনার ক্ষেত্রেও নানা ঘাটতি রয়েছে। দ্রুত এটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে আল-করীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, রাতে ঘুমানোর সময় আমিন খান অন্য রোগীদের বিভিন্নভাবে বিরক্ত করছিলেন। পরে সকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমির বলেন, আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। সেখানে আমিন খানের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


