স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সই জাল করে চাকরির আবেদন করার অভিযোগে তাসলিমা পারভীন নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই আবেদনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীসহ আরও দুই কর্মকর্তার সইও জাল করার অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে তাসলিমা পারভীনের বিরুদ্ধে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী (ভবন মেরামত) মো. মোফাজ্জল হোসেন শেরেবাংলানগর থানায় মামলা করেন। এরপর তাকেকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তাসলিমা এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী এবং পূর্বাঞ্চল সরবরাহ প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী বরাবর ‘যেকোনো প্রকল্পে কো-অর্ডিনেটর/মনিটরিং বা তৎসংশ্লিষ্ট পদে চাকরির জন্য আবেদন’ শিরোনামে একটি আবেদনপত্র নিয়ে আসেন।
এলজিইডির এলকেএসএসের অফিস সহায়ক মো. জামাল হোসেন আবেদনপত্রটি গ্রহণ করে তাকে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে উপস্থাপন করেন।
আবেদনপত্রে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী গ্রেড-১ মো. বেলাল হোসেন এবং এলকেএসএসের ম্যানেজারের সুপারিশ ও সই ছিল। তবে আবেদনপত্রে নিজের সিল ও সই দেখে সন্দেহ হয় প্রধান প্রকৌশলীর। পরে তিনি আবেদনপত্রটির ছবি তুলে প্রতিমন্ত্রীর কাছে পাঠান এবং সই করেছেন কিনা জানতে চান। প্রতিমন্ত্রী জানান, আবেদনপত্রে ব্যবহৃত সইটি তার নয়।
এরপর প্রধান প্রকৌশলী এলকেএসএসের ম্যানেজারের কাছে আবেদনপত্রটি দেখালে তিনিও জানান, সইটি তার নিজের নয়।
এজাহারে লেখা হয়, পরে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনে তাসলিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে তিনি তিন কর্মকর্তার সই জাল করে আবেদন করার কথা স্বীকার করেন।
শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শরীফ মিয়া টাইমস অব বাংলাদেশকেও একই বিবরণ দিয়েছেন।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪২০ ধারায় মামলা হয়েছে। ধারাগুলোতে জালিয়াতি, মূল্যবান দলিল বা সরকারি সিলমোহর জাল, প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরি, জাল দলিল আসল হিসেবে ব্যবহার এবং প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি বা মূল্যবান জামিনপত্র আদায়ের অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।


