রপ্তানি বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনতে তৈরি পোশাক শিল্পের মতো অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত, বিশেষ করে স্বর্ণ ও হীরা শিল্পকেও সমপর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআই-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাতের বিকাশের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আন্তর্জাতিক বাজারে সফল হলেও স্বর্ণ বা হীরা শিল্পের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলো এখনো পিছিয়ে আছে।
এখন থেকে যেকোনো সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত প্রস্তাব দিলে তাদের গার্মেন্টস শিল্পের সমান সুবিধা দেওয়া হবে। চুরির ভয়ে ব্যবসার সুযোগ সংকুচিত করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চুরির সমাধান আলাদাভাবে হবে, কিন্তু ব্যবসার পথ উন্মুক্ত থাকবে।’
দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কারে সময়ের প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এবার একটি বড় এবং গুণগত মানসম্পন্ন বাজেটের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের চাহিদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
এ ছাড়া বন্দরগুলোতে অহেতুক ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা সরাসরি জানানোর আহ্বান জানান।
রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে করদাতা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ কমানো হবে, যা দুর্নীতি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ সংক্রান্ত ডিজিটাল প্রজেক্ট ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছে।
তিনি কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সহায়তা কামনা করেন এবং যারা কর জালের বাইরে থেকে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে, তাদের করের আওতায় আনার ওপর জোর দেন।
ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতায় নয়, বরং ‘অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণে’ বিশ্বাসী। এখানে ক্ষুদ্র বা বৃহৎ সকল উদ্যোক্তা সমান সুযোগ পাবেন।


