পদোন্নতিবঞ্চিত শিক্ষকদের ‘নো প্রমোশন, নো ওয়ার্ক’ ঘোষণা   

পদোন্নতিবঞ্চিত শিক্ষকদের ‘নো প্রমোশন, নো ওয়ার্ক’ ঘোষণা   
Advertisement
Advertisement

বত্রিশ থেকে ৩৭তম বিসিএসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় ২ হাজার ৪০০ প্রভাষক পদোন্নতিবঞ্চিত, যার মধ্যে ৪০৫ জনের চাকরির বয়স প্রায় ১৩ বছর হলেও একবারও পদোন্নতি পাননি।

টাইমস অব বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলার সময় পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষকরা জানান, ৩৭তম বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা ২০২৪ সালে পদোন্নতি পেলেও, উপরোক্ত ছয়টি বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া ঝুলে আছে।

পদোন্নতির দাবিতে রোববার থেকে ‘নো প্রমোশন, নো ওয়ার্ক’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন ৩২তম থেকে ৩৭তম বিসিএসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকরা।

শিক্ষকদের অভিযোগ, যোগ্যদের তালিকায় থাকা ৩২তম থেকে ৩৫তম ব্যাচ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে সরকারের আর্থিক সংশ্লেষ না থাকা সত্ত্বেও ক্যাডার হিসেবে আত্মীকৃত শিক্ষকদের ‘মামলা’ আছে-এই অজুহাতে বিসিএসের ছয়টি ব্যাচের প্রভাষকদের পদোন্নতি আটকে রেখেছে মন্ত্রণালয়।

পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকরা জানান, শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পদোন্নতির বিষয়ে একাধিকবার ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটি (ডিপিসি) এর সভা হয়। ডিপিসি কমিটি প্রভাষকদের পদোন্নতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো আদেশ জারি করেনি। মন্ত্রণালয়ের আদেশ জারিতে এসে আটকে আছে তাদের পদোন্নতি।

আরও পড়ুন

আত্মীকৃত শিক্ষকদের মামলার কারণে আদেশ জারি আটকে গেছে বলে শিক্ষকদের জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে সহজেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারে বলে মনে করেন পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষকরা।

এক যুগের বেশি সময় প্রভাষক পদে চাকরিরত শিক্ষকরা বলছেন, ২০০০ সালের বিধি মেনে বিভিন্ন কলেজের আত্মীকৃত শিক্ষকরা যোগ্যতা সাপেক্ষে নিয়মিতকরণ হওয়ার পর ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু ২০২৪ সালে সেই বিধিমালা অমান্য করে ৫৪টি আদেশ জারি করে মন্ত্রণালয়। এর ফলে প্রায় ২ হাজার আত্মীকৃত শিক্ষক ক্যাডার হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।

এসব বিধিবিহির্ভূত আদেশ বাতিলের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাডার কর্মকর্তারা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে প্রতিবেদনসহ মীমাংসা চেয়ে চিঠি দেয় অধিদপ্তর। কিন্তু কোনো সাড়া দেয়নি মন্ত্রণালয়।

তারা বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বরে সরকারি কলেজগুলোতে ২৬০টি অধ্যাপক পদ ফাঁকা ছিল। কিন্তু ৯২০ জনকে ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে পদ ফাঁকা হলে তাদের পদায়ন হয়েছে।’

এ বিষয়ে বিসিএস শিক্ষা সমিতির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা খান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘৩২তম বিসিএস থেকে ৩৭তম বিসিএস পর্যন্ত শিক্ষা ক্যাডারদের অনেকে ১৩ বছর ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত। তাদের দাবি যৌক্তিক। তাদের দাবির প্রতি আমাদের সমর্থন আছে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (আইন) মো. জাকিরুল ইসলাম মন্ডল টাইমসকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। সোমবার বিসিএস ক্যাডারের প্রভাষকদের পক্ষে একটা স্টে-অর্ডারের শুনানি আছে। শুনানি হয়ে গেলে এরপর হয়তো একটা সমাধান আসতে পারে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর