দ্রুত পচছে মরদেহ, শনাক্ত ও সংরক্ষণ সংকটে নেপাল

দ্রুত পচছে মরদেহ, শনাক্ত ও সংরক্ষণ সংকটে নেপাল
উদ্ধার হওয়া মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে নেওয়া হচ্ছে মর্গে। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ভেসে যাওয়া শত শত মরদেহ শনাক্ত, সংরক্ষণ ও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা নিয়ে সংকটে পড়েছে নেপাল। মরদেহ রাখার অস্থায়ী কেন্দ্রগুলোতে স্বজনের খোঁজে আসা হাজার হাজার উদ্বিগ্ন মানুষের ভিড় সামাল দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা।

কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়, শুক্রবার সকালে চিতওয়ানের ভরতপুরে বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন সড়কের কাছে অস্থায়ী মরদেহ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেই কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমান স্বজনদের কেউ মলিন হয়ে যাওয়া ছবি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন, কেউ আবার মোবাইল ফোনে নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের ছবি দেখাচ্ছিলেন।

তাদের মধ্যেই ছিলেন দাং জেলার তুলসীপুর থেকে আসা দামোদর অধিকারী। তার ছেলে নারায়ণ অধিকারী ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কারিগরি কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। বুধবারের বন্যার স্রোতে নারায়ণসহ তার পাঁচ সহকর্মী নিখোঁজ হন।

তুলসীপুর-৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মোহন পৌডেল ওই পাঁচ পরিবারের জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই গাড়িতে করেই সারারাত পথ পাড়ি দিয়ে পরিবারগুলো ভোর ৭টার দিকে ভরতপুরে পৌঁছায়।

ঠিক তখন উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর ছবি কেন্দ্রের ভেতরে টেলিভিশনের পর্দায় দেখানো হচ্ছিল। স্বজনরা সেই ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে পরিচিত মুখ খুঁজছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় হাজার মানুষের ভিড় ঠেলে মরদেহ শনাক্ত করা পরিবারগুলোর জন্য বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ঘটনাস্থলে থাকা অন্য মানুষরাও অভিযোগ করেন, তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহ কেবল ছবি দেখে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। একই মরদেহ অনেকেই দাবি করতে পারেন এমন যুক্তিও তুলে ধরেন তিনি।

শুক্রবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত চিতওয়ানে ২৩৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এর মধ্যে কেবল ৮২টির ছবি ও তথ্য নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

দামোদর অধিকারী বলেন, ‘ছবিগুলো দেখানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা উচিত। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ না পেয়ে মানুষ এখানে অনির্দিষ্টকাল বসে থাকতে পারে না।’

বন্যা-ভূমিধসে চতুর্থ দিনেও চলছে উদ্ধারকাজ। ছবি: এপি/ইউএনবি

এদিকে উদ্ধার অভিযান চলতে থাকলেও কর্তৃপক্ষ এখন আরেকটি বড় সংকটের মুখে পড়েছে- এরইমধ্যে উদ্ধার হওয়া মরদেহ শনাক্ত করা, সংরক্ষণ করা এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা। বন্যার স্রোত মরদেহগুলোকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। ত্রিশূলী, মর্শ্যাংদি ও নারায়ণী নদীর বিভিন্ন অংশে মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে। রসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, তানাহুন, গোরখা, চিতওয়ান, নবলপরাসী পূর্ব ও নবলপরাসী পশ্চিম জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে এসব মরদেহ। এমনকি ভারতের সীমান্তের ভেতরেও বেশ কয়েকটি ভেসে যাওয়া মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।

কাজেই মরদেহগুলো ঠিক কোন অঞ্চল থেকে ভেসে এসেছে তা নিশ্চিত করতেও বেগ পেতে হচ্ছে নেপালি কর্তৃপক্ষকে।

স্থানীয় হাসপাতালের মর্গগুলোও ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ কমিউনিটি হল, পুলিশ কার্যালয় ও অন্য সরকারি ভবনকে অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণকেন্দ্রে পরিণত করেছে। কিন্তু এসব স্থানের অনেকগুলোতেই যথাযথ শীতলীকরণ ব্যবস্থা নেই। ফলে গ্রীষ্মের তাপে দ্রুত পচন ধরছে মরদেহে।

কাদা ও ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া অনেক মরদেহ এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত যে মুখ দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। উদ্ধারকারীরা বিচ্ছিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও আংশিক দেহাংশও পেয়েছেন। ফলে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে উল্কি, গয়না, পোশাক, আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ নমুনার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তবে ভূমিধসের ফলে সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দূরবর্তী অঞ্চলে থাকা পরিবারগুলোর জন্য জেলা সদরে পৌঁছানো, উদ্ধার হওয়া মরদেহ দেখা বা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

চিতওয়ানের প্রধান জেলা কর্মকর্তা গণেশ আরিয়াল প্রথমে জানিয়েছিলেন, মরদেহগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে শুকনো বরফ (ড্রাই আইস) ব্যবহার করে রাখা হবে। কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সেই ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভরতপুর কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবক সুবাস সুনার বলেন, ‘মরদেহ সংরক্ষণকেন্দ্রের বাইরে দুর্গন্ধ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। মরদেহগুলো পচতে শুরু করেছে। পানিতে ভেসে যাওয়া মরদেহ স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত পচে। স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ সদস্যদের কাছাকাছি থাকাও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে।’

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চিতওয়ানে ২৩৩টি, নবলপরাসী পূর্বে ১৫৪টি, গোরখায় ৪৬টি, ধাদিংয়ে ৪০টি, নুওয়াকোটে ৩৭টি, তানাহুনে ৩১টি, নবলপরাসী পশ্চিমে ২৭টি এবং রসুয়ায় ১২টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

শত শত মরদেহ, গোটা কয়েক বিশেষজ্ঞ

নবলপরাসী পূর্ব এলাকার পরিস্থিতি আরও জটিল। সেখানে স্থানীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। জেলাটিতে সাধারণ ময়নাতদন্ত করার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মী কেবল ছয়জন, কিন্তু সেখানে কোনো স্বীকৃত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ নেই। কাজেই তারা জরুরি সহায়তার জন্য কাঠমান্ডু থেকে বিশেষজ্ঞ চেয়েছেন।

আরও পড়ুন

নবলপরাসী পূর্বের প্রধান জেলা কর্মকর্তা জগদীশ্বর উপাধ্যায় বলেন, ‘এত বড় দুর্যোগ আমরা কখনো কল্পনা করিনি। আমাদের অগ্রাধিকার হলো শনাক্ত হওয়া মরদেহ যত দ্রুত সম্ভব পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া এবং বাকি মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত ও নমুনা সংগ্রহ দ্রুত সম্পন্ন করা।’

এই জেলায় উদ্ধার হওয়া ১৫৪টি মরদেহের মধ্যে ৪৮টি গেইডাকোট পৌর হাসপাতাল, ৪৬টি মধ্যবিন্দু প্রাদেশিক হাসপাতাল, আটটি পালপায় এবং ৪১টি পোখরায় পাঠানো হয়েছে। একটি মরদেহ কাভাসোটি-১৬ এলাকার একটি কমিউনিটি ফরেস্টের হলঘরে জরুরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বসিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে নেওয়া হচ্ছে মর্গে। ছবি: এপি/ইউএনবি

জেলা কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ৫২ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, ৩৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী, ১১ জন কন্যাশিশু ও আটজন ছেলেশিশু রয়েছে। পচন বা দেহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে ৪৯টি মরদেহের লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

কাজেই শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো দাফনের আগে কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করতে হবে।

আবার অনেক পরিবারের কাছে কখনো কখনো ক্ষত-বিক্ষত শরীরের ক্ষুদ্র কোনো চিহ্নই হয়ে উঠছে পরিচয়ের একমাত্র সূত্র।

হেটৌডার ২৫ বছর বয়সী খননযন্ত্র চালক সুমন গোলে নুওয়াকোটে ত্রিশূলী নদীর তীরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করতেন। ২৬ আগস্ট রাতের পালার কাজ শেষ করে তিনি নদীর পাশের আবাসস্থলে ফিরেছিলেন। কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ পানির স্রোত এসে পুরো এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

সুমনের চাচা উমেশ স্যাংবো পরদিন বন্ধুদের সঙ্গে চিতওয়ান ও নবলপরাসীতে যান। তারা নদীর তীর ও হাসপাতালগুলোতে খোঁজ চালান। একই সঙ্গে সুমনের ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেন এবং পুলিশের প্রকাশ করা অশনাক্ত মরদেহের ছবি ও বিবরণও খুঁজতে থাকেন।

নবলপরাসীর বাসিন্দারা পুলিশের একটি বিজ্ঞপ্তিতে সুমনের বুকের বিশেষ একটি উল্কির চিহ্ন দেখে পরিবারকে খবর দেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি মরদেহবাহী গাড়িতে করে উমেশ স্যাংবো মধ্যবিন্দু পৌর হাসপাতালের চোরমারায় পৌঁছান।

তিনি বলেন, ‘পানি ও আঘাতের কারণে তার মুখ পুরোপুরি চেনার বাইরে চলে গিয়েছিল। শুধু বুকের ওপর স্ত্রীর নাম লেখা উল্কির কারণেই আমরা তাকে শনাক্ত করতে পেরেছি। বেঁচে আছে কি না সেই আশা আর মরদেহ খোঁজার যন্ত্রণার মধ্যে আমরা কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন জেলার পথে ঘুরেছি। কষ্ট হলেও অন্তত এখন একটি সমাপ্তি পেলাম। সে বেঁচে নেই, তবে মরদেহ পাওয়াই আমাদের কাছে অনেক বড় বিষয়।’

মরদেহের চাপে ধারণক্ষমতার বাইরে মর্গগুলো

ভরতপুর হাসপাতালে মরদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চারটি বিশেষ ফরেনসিক দল গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক বিশ্ববন্ধু বাগালে জানান, শুরুতে সেখানে মাত্র দুইজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ছিলেন। পরে সংখ্যা বাড়লে নেপালগঞ্জ ও বুটওয়াল থেকে অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ পাঠানো হয়। প্রতিটি দলে সাত থেকে আটজন সদস্য রয়েছেন।

বাগালে বলেন, ‘চিতওয়ানে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য আমাদের পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। তবে জেনেটিক পরীক্ষা করতে বিশেষায়িত পরীক্ষাগারে কাঠমান্ডুতে পাঠাতে হয়। মরদেহের অবস্থা যেমনই হোক, আমাদের অগ্রাধিকার হলো শনাক্তযোগ্য বৈশিষ্ট্যের ছবি তোলা এবং প্রত্যেকটির জেনেটিক নমুনা সংগ্রহ করা।’

পোখরাতেও মরদেহ শনাক্ত ও সংরক্ষণে একই ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বুধবার রাতে তানাহুন থেকে নয়টি মরদেহ সেখানে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার গোরখা থেকে ১১টি, ধাদিং থেকে ২৭টি, নবলপরাসী পূর্ব থেকে ৪১টি এবং তানাহুন থেকে আরও ১৪টি মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে আনা হয়। এতে পোখরায় স্থানান্তরিত মরদেহের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০২টিতে।

নয়টি মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সেগুলো মানিপাল শিক্ষণ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তিনটি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৯০টি রাখা হয়েছে পোখরা স্বাস্থ্যবিজ্ঞান একাডেমিতে। ওই মর্গের ধারণক্ষমতা ৭২।

কাস্কির প্রধান জেলা কর্মকর্তা কুমান সিং গুরং জানান, আশপাশের জেলাগুলো এখনো পোখরাকে আরও মরদেহ গ্রহণের অনুরোধ করছে। তিনি বলেন, ‘পোখরার সব হাসপাতাল মিলিয়ে ঠান্ডা সংরক্ষণ ব্যবস্থার মোট ধারণক্ষমতা ৮৮টি। বর্তমানে আমাদের কাছে ১০২টি মরদেহ রয়েছে। বিদ্যমান মরদেহ শনাক্ত, হস্তান্তর বা দাফন না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে আর নেওয়া সম্ভব নয়।’

কাস্কি জেলা পুলিশ কার্যালয়ের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট নবীন কার্কি বলেন, ‘আমরা এক ফ্রিজারে দুটি শিশুর মরদেহ রাখছি। আবার জায়গা থাকলে দুই ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন দেহাংশ একসঙ্গে সংরক্ষণ করছি।’

শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে কাস্কি পুলিশ পোখরা স্বাস্থ্যবিজ্ঞান একাডেমিতে জরুরি তথ্যকেন্দ্র চালু করেছে। ফরেনসিক কর্মকর্তারা উদ্ধার হওয়া দেহাংশ পরিষ্কার করছেন, বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ছবি তুলছেন এবং ডিজিটাল পর্দায় সেগুলো দেখাচ্ছেন, যাতে অপেক্ষমাণ সবাইকে মরদেহ খুঁজে পেতে সংরক্ষণ কক্ষে প্রবেশ করতে না হয়।

কার্কি বলেন, ‘কোনো মরদেহের সঙ্গে সম্ভাব্য মিল পাওয়া গেলে আমরা স্বজনদের আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছি।’

এতে সহায়তা করছেন জেলা আইনজীবী সমিতি। পরিবারগুলো মরদেহ শনাক্ত করলে এবং তা নিশ্চিত প্রমাণিত হলে স্বেচ্ছাসেবকরা কাগজপত্র প্রস্তুত করছেন এবং ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে কর্তৃপক্ষ দাফনের অনুমতি দিচ্ছে।

পুলিশ তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মরদেহের ছবি ও বিবরণ প্রকাশ করছে।

শুক্রবার পোখরা স্বাস্থ্যবিজ্ঞান একাডেমির তথ্য কর্মকর্তা সুশীল আরিয়াল বলেন, ‘শুরুতে আন্তঃজেলা কাগজপত্রের কারণে ময়নাতদন্তে দেরি হলেও পরে কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে। তবে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।’

দ্রুত পচছে মরদেহ, সময়ের সঙ্গে লড়াই

পোখরার মর্গগুলোতে সাধারণত তাপমাত্রা দুই থেকে ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা হয়। আরিয়াল বলেন, ‘এই ব্যবস্থায় সাধারণত ১০ দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর বেশি সময় সংরক্ষণ করতে বিশেষ ধরনের শূন্যের নিচের তাপমাত্রার হিমায়ন ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা গান্ধকী প্রদেশের কোথাও নেই। দূরবর্তী জেলা থেকে আনা মরদেহগুলো ইতোমধ্যে দ্রুত পচতে শুরু করেছে।’

মধ্য নেপালে মর্গগুলো পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ অশনাক্ত মরদেহ কেবল ছবি এবং ডিএনএ নমুনা রেখে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দেশটির অশনাক্ত ও দাবিহীন মরদেহ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা ২০২১ অনুযায়ী, প্রধান জেলা পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত জেলা ব্যবস্থাপনা কমিটি এই দাফনের অনুমোদন দিতে পারে।

কার্কি বলেন, ‘সংরক্ষণের সীমা অতিক্রম করার পরও যদি মরদেহের দাবিদার না পাওয়া যায়, তাহলে আমরা অনির্দিষ্টকাল ধরে রাখতে পারি না। তবে জেনেটিক প্রমাণ চিরদিনের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।’

পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষ দাফনের স্থান নির্ধারণ করবে এবং প্রতিটি মরদেহকে একটি স্থায়ী শনাক্ত নম্বর দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর কোনো পরিবার সামনে এলে তারা স্বজনের দাফনের স্থান খুঁজে পেতে পারবে।

ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য কাঠমান্ডুর নেপাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি একাডেমি অথবা নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় ফরেনসিক বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।

তবে শত শত মরদেহ ও দেহাংশ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ায় কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, চূড়ান্ত ডিএনএ রিপোর্ট পেতে পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এ কারণে অনেক পরিবারের জন্য শারীরিক মরদেহ খুঁজে পাওয়া-না পাওয়া অনুসন্ধানের সমাপ্তি মানেই অনিশ্চয়তার অবসান নয়। নিখোঁজ স্বজনের ভাগ্য নিশ্চিত হতে তাদের আরও দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর