ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের অসম্পূর্ণ ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি সভা করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বাস টার্মিনাল এলাকার সড়কদ্বীপে থাকা ভাস্কর্যের মাথায় জুতার মালা ঝুলতে দেখা যায়। রশির সঙ্গে জুতা বেঁধে মালাটি তৈরি করা হয়েছিল। খবর পেয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে ভাস্কর্য থেকে মালাটি সরিয়ে ফেলা হয়।
ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে জড়িতদের শনাক্তে জেলা পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে কয়েকটি সূত্র পাওয়া গেছে।
সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিষ বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান কামাল, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন উপস্থিত ছিলেন। সভায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাগনে, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান কামাল বলেন, ‘খবর পেয়ে অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে ভাস্কর্য থেকে জুতার মালা সরিয়ে ফেলেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ন্যক্কারজনক। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সঙ্গে এটি চরম অবমাননাকর ঘটনা। আমরা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিষ বিন হাছান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর জরুরি বৈঠক করেছি। জেলা পুলিশের বিভিন্ন শাখা তদন্তে কাজ করছে। একাধিক দল মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এরই মধ্যে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। আশা করছি, দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।’
জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছে। এরই মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


