কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জীবিত থাকতেই নিজের চল্লিশার আয়োজন করে প্রায় ৬ হাজার মানুষকে খাওয়ালেন রফিকুল ইসলাম (৬২)।
শুক্রবার দুপুরে জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ আয়োজন করেন তিনি। ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রফিকুল বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে। সম্প্রতি সরকারি রাস্তা নির্মাণের জন্য তার দোকান ও জমির বড় অংশ অধিগ্রহণ করা হয়। এর বিনিময়ে পাওয়া অর্থ দিয়ে নিজের চল্লিশার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
রফিকুলের চাচাতো ভাই আবদুস সালাম বলেন, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই আয়োজন করা হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে রফিকুল আশপাশের এলাকায় দাওয়াত দিয়েছেন। বাড়িতে শামিয়ানা টানিয়ে বাবুর্চি দিয়ে রান্না করা হয়। আগের রাতেই কয়েকটি গরু ও খাসি জবাই করা হয়।
আয়োজনে গরু ও খাসির মাংস, ভাত, খিচুড়ি, মাছসহ বিভিন্ন পদ রাখা হয়। নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দল বেঁধে খাবার খান।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে। শারীরিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়েছি। পরিবারের সদস্যরা সবাই প্রতিষ্ঠিত। ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পাওয়ায় একসঙ্গে কিছু অর্থ হাতে এসেছে। স্ত্রী বেগম আক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে মৃত্যুর আগেই নিজের চল্লিশার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি মারা যাওয়ার পর হয়তো স্বজনেরা সবাইকে ডেকে খাওয়াতে পারবে না। তাই নিজের ইচ্ছায় জীবিত অবস্থাতেই আয়োজনটি করেছি।’
ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজনের কোনো বিধান ইসলামে নেই। মৃত্যুর ৪০ দিন পর চল্লিশা করাও বাধ্যতামূলক নয়। দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে আপ্যায়ন করা যেতে পারে। তবে জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন ইসলাম সমর্থন করে না।


