চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের প্রার্থী মোসাম্মৎ সুমাইয়া ওরফে সুমাইয়া শিকদারের প্রত্যাশা এ নির্বাচনের মাধ্যমে উঠে আসা প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া পূরণে সমর্থ্য থাকবেন নির্বাচিতরা।
‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ পর্ষদ থেকে ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক পদে লড়ছেন সুমাইয়া। বৈচিত্রের ঐক্যের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ক্যাম্পাসে খুবই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রার্থীরা যাচ্ছে ভোটারদের কাছে। এই যে একটা আমেজ তৈরি হয়েছে, সবার সাথে সবার যোগাযোগ হচ্ছে এটা আমাদের কাছে খুবই আনন্দের একটা বিষয়।’
নির্বাচন ঘিরে নিজের প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু ৩৬ বছর পর চাকসু নির্বাচন হচ্ছে আমরা চাই এই চাকসুর মাধ্যমে যেসব প্রতিনিধি উঠে আসবে তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে ও তাদের দাবি-দাওয়া পূরণে সমর্থ্য থাকবে।’
তিনি যোগ করেন, ‘৩৬ বছর পর চালু হওয়া চাকসু যেন প্রতি বছর সম্পন্ন হয়। চাকসুর যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এখন পর্যন্ত অনুপস্থিত, সেই গণতান্ত্রিক সংস্কার যেন চাকসুর গঠনতন্ত্রে আসে। প্রশাসনের একচেটিয়া ক্ষমতা চর্চার বিষয়টি যেন আর না থাকে।’
আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল চাকসু নির্বাচন। মঙ্গলবার সে তারিখ পরিবর্তন করে ১৫ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়।
গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ প্রশাসনই এ ঘটনার জন্য দায়ী। তাই তারা মনে করেন, এমন প্রশাসন পদে থাকতে পারে না এবং অবিলম্বে তাদের পদত্যাগ করা উচিত। ধারাবাহিক কর্মসূচির পর শিক্ষার্থীরা এ দাবিতে আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন।
তারপর সুমাইয়া শিকদার আলোচনায় আসেন আমরণ অনশন শুরু করে। প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে আমরণ অনশন করেছিলেন তারা।
দীর্ঘ ৫২ ঘণ্টা অনশনের পর ১২ সেপ্টেম্বর বিকালে অনশন ভাঙেন সুমাইয়াসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়া সুমাইয়া গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে থেকেই নিয়ম-কানুন মেনে কেন্দ্রীয় সংসদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন বলে জানান।


