চকবাজারে আগুন নিয়ন্ত্রণে: ধোঁয়ায় আহত ৪ ফায়ার ফাইটার

চকবাজারে আগুন নিয়ন্ত্রণে: ধোঁয়ায় আহত ৪ ফায়ার ফাইটার
ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস
Advertisement
Advertisement

পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারায় মনসুর খান প্লাজায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত চার ফায়ার ফাইটার আহত হয়েছেন। তারা সবাই আগুনের ধোঁয়ায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো সাধারণ মানুষ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বাহিনীটির মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জানান, আগুন লাগার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিটের চেষ্টায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্সের বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স টিম ও লাইটিং ইউনিটসহ মোট ১২টি ইউনিট কাজ করছে।

তিনি বলেন, আগুনে ভবনটির ছয়তলায় থাকা গোডাউনগুলো পুড়ে গেছে। ভবনটিতে কসমেটিকস ও ব্যাগসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের গোডাউন রয়েছে। একটি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা বিভিন্ন কম্পার্টমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের ভেতরে প্রচুর মালামাল মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়।

ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস

 

আরও পড়ুন

এর আগে সোমবার বিকাল ৫টার দিকে চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগে। খবর পাওয়ার পর বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

রাত পৌনে ১টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘পুরান ঢাকার সরু রাস্তা এবং ভবনের কাঠামোগত অবস্থার কারণে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষায়িত ও ভারী গাড়ি ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতে সমস্যা হয়েছে। পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণেও বেগ পেতে হয়।’

অভিযানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রায় ১৫০ জন কর্মী কাজ করেন। তাদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও রাতভর আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন।

ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুল হাসান বলেন, তিনি নিজে ভবনের ওপরের অংশে গিয়ে কয়েকটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেখেছেন। তবে অন্য কোনো ব্যবস্থা তার চোখে পড়েনি।

আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ভবনটিতে মোট কতটি দোকান বা গোডাউন রয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। আগুনের সূত্রপাতের কারণও তখন পর্যন্ত জানা যায়নি। এসব বিষয়ে আগুন নির্বাপণের পর তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

ভবনটিতে অগ্নিকাণ্ডের সময় মানুষ ছিলেন কি না, সে বিষয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘কিছু মানুষ নেমে এসেছেন। তবে গোডাউনগুলো সাধারণত বন্ধ থাকায় ভেতরে কেউ ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রতিটি গোডাউনে বিপুল পরিমাণ মালামাল মজুত থাকায় আগুন পুরোপুরি নেভাতে কত সময় লাগবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলা সম্ভব নয়।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad