সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমান।
নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে শনিবার ঢাকার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেছেন, গাজী নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে তার ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্ট হাউসে তার ভাগ্নির সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। ওই রাতে ভাগ্নিকে নিয়ে ঢাকার বাইরে অবস্থান করেন এবং পরদিন ঢাকায় ফিরে খিলক্ষেত হয়ে বাসায় পৌঁছানোর পর তার ওপর হামলা চালানো হয়। রাত ১১টার দিকে বাসায় পৌঁছানোর পর মাসুম ও আমিনুর নামে দুই ব্যক্তি তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন।
ওবায়দুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ২১ জুলাই পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্তে নেয় এবং কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও তারা আদালত থেকে জামিন পান।
তিনি অভিযোগ করেন, জামিনে মুক্ত আসামিসহ আরও কয়েকজন তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন। এর মধ্যে ২ আগস্ট তার বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।
ওবায়দুর রহমান বলেন, তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত চান। তিনি যদি অপরাধী হন, তবে আইনের আওতায় আনা হোক। আর যদি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়ে থাকে, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একের পর এক প্রাণনাশের হুমকির কারণে গত ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন বলে জানান তিনি।
গত জুলাইয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক তরুণীর সঙ্গে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে দেখা যায়। ফুটেজের বিভিন্ন অংশে তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে এবং ওই তরুণীর সঙ্গে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিস্কার করা হয় গাজী নজরুল ইসলামকে।


