ক্রোয়েশিয়া জাতীয় ফুটবল দলের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ জ্লাটকো ডালিচ অবশেষে তার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর মাধ্যমে ক্রোয়েট ফুটবলের এক সোনালী অধ্যায়ের অবসান হলো।
এক আবেগঘন বিবৃতিতে ৫৯ বছর বয়সী ডালিচ তার পদত্যাগের প্রসঙ্গে বলেন, ‘ক্রোয়েশিয়ার হয়ে নতুন সাফল্য অর্জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও তীব্র ইচ্ছা আজও আমার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি, এই অবিশ্বাস্য অধ্যায়ের ইতি টানার এটাই সঠিক সময়। আমি পরিপূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোর পেছনে নিজের অবদান রাখতে পেরেছি, এ নিয়ে আমি গর্বিত।’
২০১৭ সালের অক্টোবরে লড়াকু এই ক্রোয়েট দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ডালিচ। তার জাদুকরী ছোঁয়াতে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হয়ে ইতিহাস গড়ে ক্রোয়েশিয়া। এ ছাড়া, ডালিচের অধীনেই দলটি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এবং ইউরো ২০২০-এর শেষ ষোলোতে খেলেছে। ডালিচ সবসময় বলতেন, ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করা একজন কোচের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও আনন্দের বিষয়।
ডালিচের এই বিদায় নিয়ে ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এইচএনএস) প্রধান মারিয়ান কাসটিচ বলেন, ‘ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে জ্লাটকোর নাম সবসময় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’
চলমান বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। রাউন্ড অব ৩২-এ পর্তুগালের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পরই ডালিচ এই সিদ্ধান্ত নেন।
ক্রোয়েশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডালিচের উত্তরসূরি হিসেবে আবারও জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন সাবেক তারকা স্লাভেন বিলিচ। ৫৭ বছর বয়সী বিলিচ এর আগে ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সফলভাবে ক্রোয়েশিয়ার কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। ডালিচের চেয়েও তাঁর জয়ের পরিসংখ্যান বেশ ভারী। বিলিচের অধীনে খেলা ৬৫ ম্যাচের মধ্যে ক্রোয়েটরা ৪২টি ম্যাচেই জয়ী হয়েছে এবং ১৫টিতে ড্র করেছে। ২০০৮ ইউরোতে বিলিচের অধীনেই ক্রোয়েশিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল, যেখানে তুরস্কের কাছে পেনাল্টিতে পরাজিত হয়ে তাদের বিদায় নিতে হয়।
খেলোয়াড় হিসেবেও ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের হয়ে ৪৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন সাবেক এই ডিফেন্ডার। কোচিং ক্যারিয়ারে ইংলিশ ক্লাব ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডসহ ইউরোপের বেশ কিছু ক্লাবের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ মৌসুমে সৌদি আরবের ক্লাব আল-ফাতেহর প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বিলিচ।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলো ছড়ানোর আগে সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ডালিচ এশিয়া মহাদেশেও দারুণ সফল ছিলেন। ইউরোপের বাইরে সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় ক্লাব আল-ফয়সালি ও আল-হিলালের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। এরপর ২০১৪ সালে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব ‘আল আইন’-এর দায়িত্ব নেন। সেখানে তিনি দুইবার বর্ষসেরা কোচ নির্বাচিত হন এবং তার অধীনে ক্লাবটি ২০১৬ সালের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করে।


