কর ও ভ্যাট ফাঁকি রোধে পণ্য উৎপাদন পর্যায় থেকেই নজরদারি জোরদার করতে কিউআর কোডভিত্তিক ট্র্যাকিং সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে পোশাক খাতের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বাজারে আসা প্রতিটি পণ্যের কর পরিশোধের তথ্য সহজেই যাচাই করা যাবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সীমিতসংখ্যক নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরশীলতা দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তাই কর ফাঁকি কমানোর পাশাপাশি ট্যাক্স বেইজ বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।’
পরিকল্পনা অনুযায়ী, উৎপাদন পর্যায়ে প্রতিটি পণ্যে একটি ইউনিক কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। এই কোড স্ক্যান করলেই জানা যাবে পণ্যটি সঠিকভাবে ভ্যাট ও কর পরিশোধ করে বাজারে এসেছে কি না। এর ফলে সরবরাহ চেইনের প্রতিটি ধাপেই নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, শুধু প্রশাসনিক নজরদারি নয়, সাধারণ মানুষকেও এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, ‘ভোক্তারা মোবাইল ফোনে কিউআর কোড স্ক্যান করে কোনো অনিয়ম শনাক্ত করলে তাদের পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কর ফাঁকি ধরার একটি অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা তৈরি হবে।’
রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া ডিজিটাল হওয়ায় এনবিআরের হাতে এখন বড় একটি ডাটাবেজ রয়েছে। এই তথ্য ব্যবহার করে নন-ফাইলার শনাক্ত করা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করছে।
অডিট প্রক্রিয়ায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ‘রিস্ক-বেজড অটোমেটেড অডিট সিলেকশন’ চালুর ফলে এখন আর ম্যানুয়ালভাবে কাউকে বাছাই করা হচ্ছে না। এতে অযাচিত হয়রানির ঝুঁকি কমবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুরুতে ১৫ হাজার এবং পরে আরও ৬০ হাজার করদাতার আয়কর ফাইল এবং ৬ হাজার কোম্পানির ফাইল অডিটের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া ১৬টি বৃহৎ কোম্পানির আয়কর নথি যৌথ অডিটের আওতায় পড়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কর ব্যবস্থাকে সহজ ও স্বচ্ছ করতে পারলে ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন করদাতা যুক্ত হওয়ার পথও সহজ হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


