হাদি হত্যা: সন্দেহভাজন সঞ্জয় ও ফয়সালের দোষ স্বীকার

হাদি হত্যা: সন্দেহভাজন সঞ্জয় ও ফয়সালের দোষ স্বীকার
শরিফ ওসমান হাদি | ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামি সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল আদালতে দোষ স্বীকার করে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করেন।

আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক সাক্ষ্য দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম তাদের সাক্ষ্য রেকর্ড করেন।

এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, ‘তাদের দুজনকে আদালতে হাজির করা পর দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাক্ষ্যতে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

গত ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সঞ্জয় চিসিম ও সিবিউন দিউকে আটকের কথা জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

জিজ্ঞাসাবাদের পর এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১৮ ডিসেম্বর তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। পরে আদালত তিন দিন করে রিমান্ড দেয়।

আরও পড়ুন

গত ২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। ২৬ ডিসেম্বর দুই দফা রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

৩০ ডিসেম্বর তাদের আবার তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। রিমান্ড শেষে সঞ্জয় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক সাক্ষ্য দিয়েছেন। অপর আসমি সিবিউন রিমান্ডে রয়েছেন।

এদিকে, গত ১৬ ডিসেম্বর র‍্যাব-১১ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নরসিংদী জেলার সদর থানার তরুয়া এলাকার মোল্লার বাড়ির সামনে তরুয়ার বিলে অভিযান পরিচালনা করে ফয়সালকে আটক করে।

অভিযানের সময় পানির ভেতর থেকে হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

পরে তাকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর হাদি হত্যা মামলায় তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন। পরবর্তীতে মামলাটিতে ৩০২ ধারায় যুক্ত করা হয়েছে। মামলার পর ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিরা হলেন ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহযোগিতাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম রাজু এবং ফয়সাল।

এর আগে, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। পাশের একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে।

সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান ওসমান হাদি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad