সদ্য বিদায়ী বছরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, গণপিটুনির মতো ঘটনা উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২৫’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
সেখানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে দেশে ৯১৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১৩৩ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৫১১ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার বড় অংশই রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে।
একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ২৯২টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৬৮ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২৪৮ জন। অনেক ঘটনায় চুরির সন্দেহে, ধর্মীয় গুজব ও সামাজিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। যা আইনের শাসনের চরম অবনতির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছে এইচআরএসএস।
সংস্থাটি বলছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও হতাশাজনক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিলেও নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি।
সাংবাদিকদের জন্যও বছরটি ভয়াবহ ছিল বলে জানিয়েছে এইচআরএসএস।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৩১৮টি ঘটনায় ৫৩৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত তিন জন নিহত এবং কমপক্ষে ২৭৩ জন আহত হয়েছেন। গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা, গ্রেপ্তার ও মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টার অভিযোগও উঠে এসেছে।
এইচআরএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছর ২ হাজার ৪৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। যার মধ্যে ৮২৮ জন ধর্ষণের শিকার, যাদের অধিকাংশই শিশু। একই সময়ে ১ হাজার ৩৭১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়ে ২৮৮ জন প্রাণ হারিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে, হেফাজতে ও কথিত বন্দুকযুদ্ধে কমপক্ষে ৪০ জন নিহত এবং কারাগারে ৯২ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। যা রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করে সংস্থাটি।
২০২৫ সালে সীমান্ত পরিস্থিতিও ছিল উদ্বেগজনক। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে ও নির্যাতনে ৩২ বাংলাদেশি নিহত এবং হাজারো মানুষকে জোর করে পুশইনের ঘটনা ঘটেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
এইচআরএসএস থেকে আরো বলা হয় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা, সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি মানবাধিকার রক্ষায় সরকারকে আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


